রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দিনের যে অভ্যাস রাতের ঘুমে বিঘ্ন ঘটায়



full_1428423696_1481012702লাইফস্টাইল ডেস্ক: রাতে ভালো ঘুম হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ রাতের একটু ভালো ঘুম সারদিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক। আর রাতে ভালো ঘুমের কথা আসলেই আমাদের মাথায় যে চিত্রটি ভেসে উঠে, তাহলো সুন্দর একটি কক্ষ এবং আরামদায়ক বিছানা। তবে দিনের বেলায় আমরা যা করি সেসব কর্মকাণ্ড রাতের কর্মকাণ্ডের তুলনায় ঘুমের গুনগত মান নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি ভূমিকা পালন করে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। রাতের ঘুমে কোনো সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে তাহলে আপনি দিনের বেলায় এই ভুলগুলো করছেন কিনা, সেদিকে খেয়াল করুন।

# স্মার্টফোনে বেশি সময় ব্যয় করেন
গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত স্মার্টফোনে বেশি সময় কাটালে তা আপনার ঘুমের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। স্মার্টফোন ডিভাইস থেকে বের হওয়া ব্লু লাইট বা নীল আলো আপনার দেহে রাতের বেলা প্রাকৃতিকভাবে যে মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদন হয় তাতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আর এই হরমোনই আপনার মধ্যে ঘুমের অনুভূতি সৃষ্টি করতে প্রধান ভুমিকাটি পালন করে।

কিন্তু নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ঘুমাতে যাওয়ার আগে নয় বরং দিনের যে কোনো সময়েই যদি আপনি স্মার্টফোনে বেশি সময় ব্যয় করেন তা আপনার রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাবে। গবেষণায় ৬৫৩ জন লোকের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায় স্মার্টফোনে সময় ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের গুনগত মান এবং সময়ও কমে আসে।

# রোদ থেকে দূরে থাকেন
ভালো ঘুমের জন্য সকাল বেলা সবচেয়ে ভালো যে কাজটি করতে পারেন তাহলো রোদে বেড়ানো। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, সকাল সকাল গায়ে সূর্যের আলো মাখলে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার জন্য আপনার দেহঘড়ির ছন্দ ঠিক থাকবে। আপনার দেহঘড়িই আপনাকে বলে দিবে সকালে কখন ঘুম থেকে জাগতে হবে বা রাতে কখন ঘুমাতে যেতে হবে।

# বিছানায় বসে নাস্তা করা বা অফিসের কাজ করা
ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলেন, আপনার বিছানাটি শুধু ঘুম আর যৌন মিলনের জন্যই বরাদ্দ রাখুন। তাহলেই শুধু বিছানার সঙ্গে ঘুমের একটি শক্তিশালি সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এতে আপনার দেহ এই প্রশিক্ষণ পাবে যে আপনি যখন বিছানায় যাচ্ছেন তখন শুধু ঘুমাতে হবে।

# একটি বা দুটি সোডা পান করেন
নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতের বেলায় ৫ ঘন্টা বা আরো কম সময় ঘুমান তারা যারা ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান তাদের তুলনায় চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ২১% বেশি পান করেন। এই গবেষণায় অংশ নেন ১৮,৭৭৯ জন।
তবে এতে প্রমাণিত হয়নি কম ঘুমের কারণে লোকে ওই পানীয়গুলো বেশি পান করছেন নাকি ও পানীয়গুলো বেশি পান করার কারণে তাদের কম ঘুম হচ্ছে। তবে দুটি আচরণের ফলেই স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুটি আচরণের ফলেই হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়।

তবে সোডা এবং এনার্জি ড্রিঙ্কস পান করার পরিমাণ কমিয়ে আনলে ঘুমের সমস্যা দূর হবে।

# আরাম কেদারায় বসে প্রচুর সময় ব্যয়
ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, মেজাজ-মর্জি ভালো রাখে, হাড় ও মাংসপেশি শক্তিশালি করে, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থুলতা এবং বেশ কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এতে আয়ুও বাড়ে। আর নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনি শিশুর মতো ঘুমাতে পারবেন।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, দিনে গড়ে ছয় ঘন্টার কম বসে থাকলে রাতে ভালো ঘুম হয়। এর বেশি সময় ধরে বসে থাকলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

# ধুমপান
ধুমপানের স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোর তালিকায় ঘুমের সমস্যাটিকেও যুক্ত করে। সিগারেটের তামাকে থাকা নিকোটিন একটি উত্তেজক উপাদান। যা আপনাকে রাতে জাগিয়ে রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অধুমপায়ীদের চেয়ে ধুমপায়ীরা চারগুন বেশি ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। ধুমপানের মাধ্যমে আসলে দেহের আভ্যন্তরীন দেহঘড়িটি বদলে যায়। ফলে নিদ্রহীনতা দেখা দেয়। এমনকি প্রতিটি সিগারেট পানে গড়ে ১.২ মিনিট করে ঘুম নষ্ট হয়।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত