সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের সামনেই চলছে অটোরিকশা!



unnamed-2-33ঢাকা সিলেট মহা সড়কে সরবে বন্ধ হয়ে নীরবে চলছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। আর এই মহা সড়কে সিএনজি অটোরিকশার চাকা ঘুরলেই যেন ভাগ্যের চাকা ঘুরে হাইওয়ে পুলিশের। টাকা থাকলেই মহাসড়কে চালানো যায় তিন চাকার যানবাহন এমনটাই জানিয়েছেন চালকরা।
এদিকে, মহাসড়কে ৩ চাকার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মহা সড়কের নবীগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের সামনেই বেপরোয়াভাবে চলছে সিএনজি অটোরিকশা। মহাসড়কের এমন দৃশ্য দেখা যায় হরহামেশায়।
জানা যায়, দূর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার ফলে জনভোগান্তি হলেও সরকার চাপের কাছে নতস্বীকার করেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নিষিদ্ধ এসব যান চলাচল বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু সরকারে উচ্চ কর্তারা যখন বেশি চাঁপ প্রয়োগ করেন, তখনই কিছু দিন লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিএনজি অটোরিকশা আটক ও মামলা দেওয়া হয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দাবি, জাতীয় মহাসড়কে এসব যান চলাচল ৯০ শতাংশ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অংশে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, আগের মতোই চলছে তিন চাকার যান সিএনজি চালিত অটোরিকশা। মহাসড়কের কোন কোন এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের সামনেই সিএনজি অটোরিকশা চলতে দেখা যায়। গতকাল বিকেলে মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া এলাকায় ৬ থেকে ৭ টি সিএনজি অটোরিকশা এক সাথে দেখে বুঝা গেছে সিএনজি অটোরিকশার দখলেই এই মহাসড়ক। অনেকেই এক সাথে দেখে এটাকে সিএনজির মিছিল বলে মনে করেছেন। এর কিছুক্ষন পরই মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তুমপুর টোলপ্লাজার নিকটে গাড়ি থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের একদল সদস্যকে। মহাসড়কের এ স্থানে হাইওয়ে পুলিশকে দেখে মোটরসাইকেল থামিয়ে প্রায় ১০ মিনিট দাড়াতেই দেখা যায় পুলিশের ভূমিকা কি আর বাস্তবে করছেটা কি। এই ১০ মিনিটে হাইওয়ে পুলিশের সামনেই প্রায় ৫০টি সিএনজি অটোরিকশা উভয় দিক থেকে যেতে আসতে দেখা যায়। এতে প্রশ্ন উঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তারা কেন এখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিল এনিয়ে নানা রহস্যের দানা বেধেছে।unnamed-2
একটি সূত্রে জানা গেছে, হাইওয়ে পুলিশ টোকেন সিস্টেম চালু করেছে। এটা চাদাবাজির অন্যতম কৌশল। প্রতি মাসে মাসে যে চালকরা হাইওয়ে পুলিশকে চাদা দেয় তাদেরকে হাইওয়ে পুলিশ একটি টোকেন দিয়ে দেয়। আর এই টোকেন দেখিয়ে দেখিয়ে সারা মাস চালাতো পারে গাড়ী চালকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানিয়েছেন, যাদের টোকেন নেই তাদেরকে আটক করা হয় এবং ২থেকে ৫শত টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় লোক দেখানোর নামে এক দুটি সিএনজি অটোরিকশা আটক করে মামলা দেওয়া হয়।
সূত্রের তথ্য আর ওই দিনের হাওয়ে পুলিশের কান্ডে মিল পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের দাবী, ওইদিন পুলিশের সামনে দিয়ে যত সিএনজি অটোরিকশা যাতায়েত করেছে সব মনে হয় পুলিশের মাসিক টোকেনের আওতায়।
এ ব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি বিমল ভৌমিক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমরা সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেই না। তবে কিছু চালক আমাদের অনুপস্থিতিতে চুরি করে মহাসড়কের কিছু জায়গায় সিএনজি অটোরিকশা চালায়। তবে আমাদের উপস্থিতিতে চালায় না।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত