বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে স্বাধীনতার ৪৫বছরে সনদ পায়নি ! হতশায় শহীদ পরিবারের লোকজন!



downloadনবীগঞ্জ প্রতিনিধি::নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামের এলাকায় মুক্তিযোদ্ধকালীন সময়ে এক মাত্র শহীদ সান উল্লাহর পরিবার স্বাধীনতার ৪৫বছরে মুক্তিযোদ্ধের সনদ আজও তাদের ভাগ্যে জোটে নি। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাপ করেও কোন কাজ হয়নি। ফলে শহীদ পরিবারটি হতাশায় ভোগছেন।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামের শহীদ সান উল্লাহ ছিলেন তৎকালীন সময়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। এবং তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের শেষ দিকে ইনাতগঞ্জ এলাকার কিছু সংখ্যক রাজাকার, আলবদর, আলসামছ সান উল্লাহ মেম্বারকে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেয়। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী সে দিন সান উল্লাহ মেম্বারকে ধরে নিয়ে তাদের জাহাজে আটক করে রেখে রাতভর নির্যাতন করে পরের দিন সকালে ইনাতগঞ্জের পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের নিকটে একটি বট গাছের সাথে বেঁধে প্রকাশ্যে রাজাকারদের উপস্থিতিতে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর শহীদের স্বজনরা লাশটি বাড়িতে নিয়ে আসবে সে সাহস হয়নি। কারন পাক হানাদার বাহিনীর প্রহরায় ছিল লাশটি! দুই দিন পর মৃত দেহটি বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করা হয়। নবীগঞ্জ শহীদ মিনারে শহীদদের তালিকায় ৫৮ নাম্বারে শহীদ সান উল্লার নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার পরও স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও শহীদ সান উল্লাহর পরিবার মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন নি। সনদ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে ওই পরিবার হতাশায় ভূগছেন।

শহীদ পরিবার সূত্রে আরো জানা যায়, বিগত ২০১০সালে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন এর উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে শহীদ সান উল্ল¬ার নামে একটি রাস্তা নামকরণের জন্য প্রস্তাব পাঠালে মাসিক সমন্বয় সভায় প্রস্তাবটি রেজুলেশন করা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুল ইসলাম আনুষ্টানিকভাবে দিঘীর পাড় লালাপুর ভায়া প্রজাতপুর সড়কটি শহীদ সান উল্লাহর নামে নামকরণ করেন। এ ব্যাপারে শহীদ সান উল্ল¬ার পুত্র সাংবাদিক রাকিল হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধে যারা স্বজন হারিয়েছেন,এই কষ্ট শুধু তারাই বুঝবেন। তিনি বলেন, সনদ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হলেও আমি গর্বিত এ জন্য যে আমি একজন শহীদের সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার হিসেবে নাম অর্ন্তভুক্তি করার জন্য অনেক চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়েছি।
শহীদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত