মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

“একটা শীতের কাপড় দিয়েন” কোন কষ্টই আর কষ্ট মনে হয় না



unnamedঅনিমেশ দাস:: গনমাধ্যমে কাজ করার শুরু থেকেই আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, নিয়ম আর নীতি নিয়ে প্রতিদিনই পত্রিকাতে সংবাদ পাঠাই। আমরা কি ভেবেছি গরীব অসহায় ছিন্নমূল ও প্রতিবন্ধি মানষের কথা। এসব কথা লিখতে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় কলম,বন্ধ হয়ে যায় মুখের ভাষা। কাছে বসে শুনেছি এক প্রতিবন্ধি মায়ের করুন আর্তনাতের কথা।

১৯শে ডিসেম্বর বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাওয়ার পথে দেখা হয় প্রতিবন্ধি এক মায়ের সাথে, তার দুটি পা থাকলেও নেই চলার মত সামর্থ । দুটি হাতের মধ্যে ভর করে চলতে হয় । করুন আত্মকাহিনী শুনতে শুনতে নামটি জানতে চাইলে বলেন সুফিয়া খাতুন,জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের বাসিন্ধা, দুই ভাই,তিন বোন এর মধ্যে সুফিয়া খাতুন সবার ছোট। নিজের কাছে প্রশ্ন বন্ধি হয়ে দাড়িয়ে রইলাম। এর মধ্যেই তিনি বির বির করে বলতে লাগলেন এই শীতে রাত কাটে পড়নের ঐ কাপড় দিয়ে । অর্ধেক গায়ে দেই আর অর্ধেক মাঠিতে বিছিয়ে ঘুমাইয়া থাকি।

আমার বাবা যতদিন বাঁচিয়া আছিল ততোদিন আমার খবর সবাই লইতো, এখন আমার বাপ নাই, কেউ আমার খোঁজ- খবর লয়না। কেডায় দেখব আমারে, শুনব আমার কথা, মাঝে মধ্যে মনে হয় আল্লাহয় আমারে যেভাবে রাখছে সেভাবেই খুশি,গরিবের তো ভাই আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নাই। হাটতে পারিনা হাতে ভর রেখে চলতে হয়, এভাবে রাস্তা পেরিয়ে ভিক্ষার মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করি। কথা বলতে বলতে পাশ দিয়ে আরেক ভিক্ষুক যখন ভিক্ষা করে চলছে সুফিয়া খাতুন তার ভিক্ষার ঝুলি থেকে কিছু দান করেন অপর ভিক্ষুককে। এসব কষ্টের কথা শুনে নিজেকে আর আটকাতে পারলাম না। আমাদের সমাজের আশপাশের অনেক প্রতিভাবান,সমাজ সেবক ব্যক্তিরা আছেন যারা পড়নের পুরাতন কাপড় গুলো বাড়ীতে অযতেœ ফেলে রেখেছেন,সেই কাপড়গুলো একত্র করে, সমাজের আরও প্রতিভাবান ব্যক্তিদের উদ্বোধ্য করে নতুন/পুরাতন কাপড় সংগ্রহ করে সমাজের গরীব অসহায় ছিন্নমূল ও প্রতিবন্ধি মানুষের মধ্যে বিলিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত