শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমনের পক্ষে ভোট চাইলেন এমপি রতন: হামলায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ওসমানীতে



unnamed-3জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: আচরণবিধি লঙ্গন করে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে সুনামগঞ্জ -১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির উপস্থিতিতে জামালগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতাহাতি।

জানা গেছে এমপি রতনের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার জামালগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে ৮ বছরের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভার আড়ালে আচরণবিধি লঙ্গন করে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং এক ইউপি চেয়ারম্যান পাল্টা পাল্টি বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি-হাতাহাতির ঘটনায় নির্বাচনে ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আ’লীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিনকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করায় তিনি তাৎক্ষণিক ষ্ট্রোক করলে তাকে জামালগঞ্জ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলেই সিলেট এমএজি ওসামী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় থাকা দলীয় নেতাকর্মী ও একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান /সদস্যদের সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ¦ মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে ৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য/ সদস্যা ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনামগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য এমপি রতন আকারে ইঙ্গিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবীর ইমনের চশমা প্রতীকে ভোট চান। এমপি বক্তব্য দেয়ার পর প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার আহবান জানালে বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার তার বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন আমরা চেয়ারম্যান মেম্বাররা সবাই চোর, তাই এমপি সাবের কথামতো সবাইকে ভোট দেওন লাগব, আর না হলে আমরা কেউ সুযোগ সুবিধা পাইতামনা। তার এ বক্তব্যের পর সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী মিছবাহ উদ্দিন অসীমকে উদ্দ্যেশ করে বলেন আপনি ঢালাও ভাবে সবাইকে চোর বলতে পারেন না, ভালো চেয়ারম্যান মেম্বার ও রয়েছেন। মিছবাহ উদ্দিনের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় এমপির ঘনিষ্টজন খ্যাত উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি সদস্য প্রার্থী আবদুল মুকিত চৌধুরীর উপস্থিতে যুবলীগ নেতা আবুল আজাদ এবং তাদের লোকজন সাবেক ভাইস চেয়াম্যানের ওপর চড়াও হয়ে তাকে ঠেলা ধাক্কা, তর্কাতর্কি ও শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত বলে দলীয় কার্যালয় থেকে থেকে বের করে দেয়া হলে এ নিয়ে এমপির দলীয় নেতাকর্মী ও উপস্থিত ইউপি সদস্য চেয়াম্যনদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করে। এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিছবাহ উদ্দিন তাৎক্ষণিক ষ্ট্রোক করলে তাকে জামালগঞ্জ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলেই সিলেট এমএজি ওসসামী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’ এরপরই এমপি দলীয় কার্যালয় ত্যাগ করে দ্রুত আ’লীগ সভাপতির বাসায় চলে যান।

যুবলীগ নেতা আবুল আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করিনি তিনি আপক্তিকর কথা বলায় এটা অসীম চেয়ারম্যানের ইউপি সদস্যরাই মিছবাহকে লাঞ্চিত করেন।

বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার বলেন, আমার বক্তব্য শেষ না হতেই সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বেফাস কথা বার্তা ও টেবিল চাপড়াতে থাকলে দলীয় কার্যালয়ে থাকা অন্যরা উক্তেজিত হয়ে উঠলে এ ধরণের ঘটনাটি ঘটেছে।
উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ¦ মোহাম্মদ আলী বৃহস্পতিবার মতবিনিময় সভার উপরোক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও তিনি অন্য কোন বিষয়ে তিনি বক্তব্য দিতে অপরগত্ াপ্রকাশ করেন।

এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গন করে ভোট চাওয়া এমনকি উন্নয়ন সভার নামে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় বৃহস্পতিবারের দলীয় কার্যালয়ে ডাকা সভাকে বর্জন করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মী ও সাচ্নাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্য/ সদস্যাগণ। এ নিয়ে নতুন করে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে খোদ সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই তোলপাড় ও বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য রতন এমপিকে নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।’
জেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাচ্না বাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন, এমপি রতন মতবিনিময় সভার নামে বিশৃংখলা ও সংঘাত উস্কে দিচ্ছেন তাছাড়া এমপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় আকারে ইঙ্গিতে এক প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়াটাও নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গন করেছেন, তাই আমার ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য/ সদস্যগণ ও উপজেলা আ’লীগের একটি বড় অংশই এ মতবিনিময় সভা বর্জন করেছেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, জামালগঞ্জে কিছু হয়নি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানের পেটে গ্যাসের সমস্যা হয়েছিলো, তিনি ষ্ট্রোক করেনি বা অন্য কোন ধরণের ঘটনাই ঘটেনি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত