রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলা গানকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিচ্ছেন ‘অ্যাডাম কিডরন’



full_2001162902_1482505318-1নিউজ ডেস্ক: অ্যাডাম কিডরন। ২০১৪ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠা করেন ইয়ন্ডার মিউজিক অ্যাপস।। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালের ২৪মে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবির সহায়তায় বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
ইয়ন্ডার মিউজিক অ্যাপসের মাধ্যমে বাংলা গানকে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শকদের কাছেও ইংরেজি গানের পাশাপাশি বাংলা গানকে পৌঁছে দিচ্ছেন।
অ্যাডাম কিডরন বলেন, চট্টগ্রামে এসে খুব ভাল লাগছে। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে এলাম। রবির সহায়তায় আমরা চট্টগ্রামে ‘ডাকছে চট্টগ্রাম’ শিরোনামে একটি কনসার্টের আয়োজন করেছি। অবশ্য রবিই চেয়েছিল তাদের চট্টগ্রামের গ্রাহকদের জন্য ভিন্ন কিছু করতে। রবির আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা এগিয়ে এসেছি।
চট্টগ্রামে এ ধরনের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ। এই বড় জনগোষ্ঠীর কাছে ইয়ন্ডার অ্যাপসকে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। চট্টগ্রামে রবির গ্রাহকসংখ্যা অনেক। এ বিপুল পরিমাণ গ্রাহকের কাছে ইয়ন্ডার অ্যাপসকে পৌঁছে দিতে চট্টগ্রামে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।
এই কনসার্টের মাধ্যমে আমরা বাংলা গানকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। বাংলা গানের এমনিতেই অনেক এগিয়ে গেছে। এখানে অনেক ভাল ভাল গান হচ্ছে। এসব গানকে আমরা ইয়ন্ডার অ্যাপসের মাধ্যমে খুব সহজেই দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। শুধু বাংলাদেশের দর্শক নয়, বিশ্বের গানপ্রিয় দর্শকদের কাছেও আমরা বাংলা গানকে পৌঁছে দিতে চাই।
ইয়ন্ডার মিউজিক অ্যাপস সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ফ্রি অ্যাপ। এখানে কোন সার্ভিস চার্জ নেই। কোন সাবক্রিপশন ফি নেই। শুধু অ্যাপসটা ডাউনলোড করে গানের লিস্টে গেলেই গান শোনা যাবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এয়ারটেল ও রবি গ্রাহকরাই শুধু এই অ্যাপসটা ব্যবহার করতে পারবেন। এই অ্যাপসে কোন গান একবার শুনলে তা নিজেই অ্যাপসে সেইভ হয়ে যায়। পরে শ্রোতা যদি ওই গানটা আবার শুনতে চান তাহলে কোন ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে না, অফলাইনে থেকেও তিনি গানটি শুনতে পারবেন।
তিনি বলেন, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম মিউজিক অ্যাপস, যেখানে ইংলিশ ও বাংলা দু’ধরনের গানই আছে। অ্যাপসে গানের বড় একটি লিস্ট আছে। সেখান থেকে বিশ্বের নামকরা সঙ্গীত শিল্পীদের গান শোনা যাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যান্ড মাইলস, এলআরবি, শূন্য, নেমেসিস, চিরকূট, শিল্পী বাপ্পা, কণা, এলিটা, হৃদয় খান, হাবিবসহ সব শিল্পীর গানই এখানে আছে। মোটকথা দেশি ও আন্তর্জাতিক গানের বড় একটা লাইব্রেরি বলা চলে ইয়ন্ডার মিউজিক অ্যাপসকে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ইয়ন্ডার মিউজিক আমেরিকান প্রতিষ্ঠান হলেও প্রথম কাজ শুরু করে মালয়েশিয়ায়। তারপর ইন্দোনেশিয়াতে শুরু হয়। এখন বাংলাদেশে হচ্ছে। বাংলাদেশে অ্যাপসটি চালুর পর দর্শকদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়েছি। ২০১৭ সালে নেপাল, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলা গানকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলা গান এগিয়ে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। বাংলা গান ও বাংলাদেশের শিল্পীদের নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছা আছে। এখানে ভবিষ্যতে আরও কনর্সাট আয়োজন করার ইচ্ছা আছে।ইয়ন্ডার মিউজিক অ্যাপসের কর্ণধার অ্যাডাম কিডরন
‘বাংলাদেশের নামকরা শিল্পীদের পাশাপাশি আমরা নতুন শিল্পীদের সবার সামনে তুলে ধরতেও কাজ করে যাচ্ছি। কোন নতুন শিল্পীর গান যদি ভাল হয় সেক্ষেত্রে গানটিকে অ্যাপসের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। তাদেরকে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিল্পীদের সহায়তায়ও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ’
বাংলা গানের নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে ও তাদেরকে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে ইয়ন্ডার মিউজিক অ্যাপস ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকবেও বলে জানান অ্যাডাম কিডরন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত