মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মোল্লাপাড়া ও রঙ্গারচর ইউনিয়নে গণ সংযোগ করলেন সাংবাদিক আল-হেলাল



unnamed-72-1সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:: নামাজে জানাযা,দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ও রঙ্গারচর ইউনিয়নে গণ সংযোগ করেছেন জেলা পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী সাংবাদিক শিল্পী আল-হেলাল। ২৫ ডিসেম্বর রবিবার সকালে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ও বিকেলে রঙ্গারচর ইউনিয়নে গণ সংযোগ করেন তিনি।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হকের সভাপতিত্বে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণ সংযোগ সভায় উপস্থিত ছিলেন, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মতিবুর রহমান,১-৩নং ওয়ার্ডের সদস্যা সাজিবুন আক্তার,৪-৬নং ওয়ার্ডের সদস্যা রওশন আরা,৭-৯ নং ওয়ার্ডের সদস্যা সামছুন নাহার, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য জহির উদ্দিন,২নং ওয়ার্ডের সদস্য জহুর আলী, ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য রেদোয়ান আলী রায়হান, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মঈন উদ্দিন আহমদ,৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মজিদ,৭নং ওয়ার্ডের সদস্য অলিউর রহমান, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল হাসান কমল প্রমুখ।
পরে বিকেলে আল-হেলাল সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান এর পিতা মনোহরপুর গ্রাম নিবাসী মকসদ আলী সাহেবের নামাজে জানাযায় অংশ নেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় রঙ্গারচর ইউনিয়নে মেম্বার হাবিবুর রহমানের পিতা মরহুম মকসদ আলী সাহেবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের মাধ্যমে বক প্রতীকের পক্ষে মত বিনিময় করেন। রঙ্গারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণ সংযোগ উপলক্ষে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের ১-৩নং ওয়ার্ডের সদস্যা সখিনা বেগম,৪-৬নং ওয়ার্ডের সদস্যা রাবেয়া বেগম,৭-৯ নং ওয়ার্ডের সদস্যা জাহানারা বেগম,১নং ওয়ার্ডের সদস্য শহীদ মিয়া,২ নং ওয়ার্ডের সদস্য মাওলানা জহুরুল হক,৩নং ওয়ার্ডের সদস্য শরকত আলী, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আমীর আলী, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য সুরুজ মিয়া, ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য হোসেন মিয়া,৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আরব আলী, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আসাদ মিয়া,৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন বাবুল প্রমুখ। এর আগে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে বক প্রতীকের সমর্থনে রচিত স্বরচিত গানে মুগ্ধ হয়ে সদস্য এর আগে ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ারঘাট বাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বক প্রতীকের সমর্থনে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। এসময় চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার ডিলার,ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান,আব্দুল আজিজ,আব্দুল মান্নান,আব্দুল হাই,ইউনুছ আলী, আনসার আলী, আবুল হোসেন,ইউপি সদস্যা স্বাধীনা আক্তার,সাজিয়া বেগম ও হাফছা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রার্থী আল-হেলাল সেখানেও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তার স্বরচিত গানের মধ্যে দিয়ে বক প্রতীকের পক্ষে ভোট দানের আহবাণ জানান। একইদিন শুক্রবার রাতে শহরের হাজীপাড়াস্থ বাসভবনে সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে দোয়া নিতে গেলে আল-হেলালের গানে মুগ্ধ হয়ে তাকে আশীর্বাদ স্বরুপ নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান। এসময় ঢাকা থেকে আগত ডাঃ কামরুল হাসান চৌধুরী,দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান তালুকদারসহ বিভিন্ন এলাকার আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়,জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরুর প্রথম থেকেই গণ সংযোগে আল-হেলাল অনেক এগিয়ে থাকলেও ভোটারদের কাছে পোস্টার লিফলেটসহ অন্যান্য প্রচারপত্র যথারীতি বিলিবন্টন করতে গিয়ে আর্থিক সংকঠে পড়েন আল-হেলাল। এমনকি গণ সংযোগে যাওয়ার প্রয়োজনে মোটর সাইকেল ভাড়া ও পেট্রল সংগ্রহসহ আনুসাঙ্গিক খরচ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত পরিচালনায় হিমসীম খেয়ে উঠেন। বিভিন্ন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ভোটারদের কাছে বিষয়টি জানতে পেরে আলহাজ্ব মতিউর রহমান আল-হেলালকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।
এসময় তিনি বলেন,বিশুদ্ধ বাউল গানে একজন শিল্পীর যে প্রাণের আকুতি থাকে তাই নয় বরং এর মাধ্যমে শ্রষ্টায় সমর্পণের তাগিদও লাভ করা যায়। খোদাপ্রেম ও মানবপ্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ৫৪ সালে কামাল করিমের এরকম বাউল গানই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের বিজয়ে মাইলফলক ভূমিকা পালন করেছিলো। তখনকার ভোটাররা নেতাকে বলতেন বক্তৃতা নয় গান শুনান ভোট এমনিতেই পেয়ে যাবেন। ভোটাররা গানের ও শিল্পীর কদর করতে জানেন। আল-হেলাল বলেন,মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু গান শুনে বাউল শাহ আব্দুল করিমকে নগদ টাকায় পুরস্কৃত করে যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছিলেন জননেতা আলহাজ্ব মতিউর রহমান ঠিক এমনি এক কঠিন মুহুর্তে আমাকে নগদ অনুদান প্রদান করে আজীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করে ফেলেছেন। তিনি আমাকে কতটাকা দিয়েছেন সেটা কোন বিষয় নয় বরং তার এ অনুদানে আমার প্রতি তার দরদ ¯েœহ ভালবাসা ও দোয়ায় আমি আসলেই ধন্য। তাই দান দোয়া ও ধাওয়ার মধ্যে দিয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি জয়লাভ করবো ইনশাল্লাহ। আল-হেলাল সকল লোভ লালসার উর্ধে উঠে,সুদখোর,থানার দালাল,দুর্নীতিবাজ,জবর দখলদার ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা নামধারী ব্যাভিচারীর বিরুদ্ধে পবিত্রতার প্রতীক বক মার্কায় তাকে ভোট দানের জন্য সকল জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। পরে স্বরচিত গান পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে তিনি তার গণ সংযোগ সমাপ্ত করেন। “সজনী আমার বকপাখিটা হয় সাদা/ব্যালট মাঝে ভাসলোগো সেই প্রতীকটা সাদা।। সজনীগো সাদা একটা প্রতীক লইয়া/শান্ত মানুষ যায় আগাইয়া। সাদা আত্মা ভাসেগো সাদা। আমি সাদা আমার বন্ধু সাদাগো সখী/মনটাও আমার হয় সাদা।। সজনীগো,শান্তির একটা বানী লইয়া,বকপাখিটা যায় উড়িয়া/আকাশপানে দেখায় গো সাদা। আমি সাদা আমার মনটা সাদাগো সখী/আমার কাফনও হবে সাদা।। সজনীগো হালকা সবুজ ব্যালট পাতায়,সেই ব্যালটের ডান জায়গায়/থার্ড সারীতে বসা বকটা দেখায়গো কালা।ওসে ভিতরে কালা বাইরে সাদাগো সখী/ভিক্ষা দাও মোর বাপ দাদা।। সজনীগো কাঁদার ভাগা নেয়না কালায়/গাধায় বুঝি গোলা জল খায়,সেই জল ভরিতে নেই কোন বাধা। নিষেধ বাধা না শুনিয়াগো সখী/আল-হেলাল রইলো বাধা ”।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত