মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পিইসি ও জেডিসি পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী



29-12-16-pm_received-results-of-psc-and-jsc_gonobhaban-18নিউজ ডেস্ক ::শিশুরা যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে না জড়িয়ে যায় সেজন্য শিশুদের শান্তি-উন্নতির শিক্ষা দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মতো ভুল পথে যেন কেউ না যায়। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পরীক্ষার ভীতি কাটাতেই প্রাথমিক পর্যায় থেকে বোর্ড পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। পিইসি ও জেডিসি পরীক্ষা আগামিতে অব্যাহত থাকবে।
এ বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি ও জেডিসির ফলাফল সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।পরে একের পর এক ৮টি শিক্ষা বোর্ডের প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিভিন্ন বোর্ডের ফলাফল তুলে দেন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক পর্যায়কে শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
সকল পরীক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীদের মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতেই প্রাথমিক পর্যায় থেকে বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে যেন শিশুরা না জড়াতে পারে সেজন্য শিক্ষক-অভিভাবকদের সজাগ থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, রাজাকার আলবদররা এখনো এ দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে আর দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দরকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এজন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার সনদ শিশুদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে, আত্মবিশ্বাস জোগাবে।প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় পঞ্চম ও অষ্টমে দুটি আলাদা সমাপনী পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে এ বছর নানা নাটকীয়তার পর সরকারপ্রধানের এই বক্তব্য এল। এ সমাপনী পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সৃষ্টি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, (শিক্ষার্থীরা) সার্টিফিকেট পাচ্ছে। মনে করবে, কিছু করলাম, তাই সার্টিফিকেট পেলাম। এতে আত্মবিশ্বাস জন্মাবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রচলন হয়। পরের বছর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয় ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা। একই বছর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা। আগে পঞ্চম শ্রেণিতে আলাদা করে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী চালুর পর ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে গত ১৮ মে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে সরকার।এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় তা আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত বছর শেষে আগের মত দুই পরীক্ষাই হয়।এবার প্রাথমিকে ৯৮.৫১ শতাংশ এবং ইবতেদায়ীতে ৯৫.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হার ৯৩.০৬ শতাংশ। এবার প্রাথমিক সমাপনীতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো ফল করেছে। ছাত্রদের পাশের হার ৯৮ দশমিক ৪৪, সেখানে ছাত্রীদের পাশের হার ৯৮ দশমিক ৪৫। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলেদের সংখ্যা কেন কমে আসছে, এটা দেখতে হবে। কারণ আমরা জেন্ডার ইকোয়ালিটিতে বিশ্বাস করি।
পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে যখন বৃত্তি পরীক্ষা হতো, তখন কিছু শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হতো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে করে বাকিদের প্রতি শিক্ষকদের মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হতো না। ৩০/৪০ জনের মধ্যে যারা মেধাবী তারাই সুযোগ পাবে, বাকিরা বঞ্চিত হবে; এটা কেন? সবাই পরীক্ষা দেবে। তার মধ্যে থেকে যারা মেধাবী তারাই বৃত্তি পাবে,যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।সবাইকে আমার একটা অনুরোধ থাকবেৃসন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। যারা শিক্ষার সাথে জড়িত, তাদের ছোট ছোট শিশুদের মাথায় ঢোকাতে হবে যে, আমরা শান্তি চাই বা শান্তি ছাড়া উন্নতি সম্ভব না। অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মস্থলে যারা আছে, মসজিদের ইমাম বা প্রত্যেক ধর্মের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে… আমরা শান্তি চাই, উন্নতি চাই, প্রত্যেকের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই, সকলের জীবনের নিরাপত্তা চাই।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত