রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে বেপরোয়া ডাকাত দল, চারিদিকে আতংক



1454340404নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:: নবীগঞ্জে একের পর এক চুরি, ডাকাতির ঘটনায় উপজেলাজুরে চুর, ডাকাত আতংক চরম আকার ধারন করেছে। প্রতিরাতেই উপজেলার কোন না কোন গ্রামে চুর ডাকাত দলের এসব তান্ডবের ঘটনায় আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতির চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে জানিছেন বিজ্ঞ মহলের লোকজন। একের পর এক চুরি, ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় রয়েছেন এলাকাবাসী। বাধ্য হয়েই রাত জেগে এলাকা পাহারা দিচ্ছে নিজেরাই। তবুও ঠেকানো যাচ্ছেনা চুরি, ডাকাতি।
এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘনঘন চুরি, ডাকাতির ঘটনার পরও পুলিশ এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি। এমনকি উদ্ধার হয়নি কারো লুণ্ঠিত মালামাল। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী চুর ডাকাত প্রতিরোধে নিজেরাই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ঘনঘন চুরি, ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ বিভাগের কার্য্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। ইদানিং পরপর কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় নবীগঞ্জ থানা পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ সারাদিন কাজ করে বাড়ীতে এসে পাহাড়া দিচ্ছে ? যেখানে পুলিশ প্রশাসনের টহল দেওয়ার কথা তারপরও বীরদর্পে অপকর্ম করে যাচ্ছে ডাকাতেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, আমরা ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করি অথচ, তারা নির্বাচিত হওয়ার পর জনগনের সাথে করা প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভূলে যাওয়া এটি তাদের বৈশিষ্ট তারা কি করেছেন এখন পর্যন্ত উল্লেখ যোগ্য কোনও ভূমিকা তারা নিতে পারেননি। নবীগঞ্জে এ যাবৎ পর্যন্ত এত ডাকাতি ও চুরি‘র ঘটনা পূর্বের ঘটনাকে হার মানিয়েছে যা কিনা সর্বোচ্চ। নবীগঞ্জ উপজেলার এমন কোনো গ্রাম নেই যে ডাকাতির আতংকে তারা পাহারা দিচ্ছেনা।
গত ৩০ ডিসেম্বরঃ শনিবার গভীর রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর অঞ্চলের গজনাইপুর ইউনিয়নের কায়স্থগ্রামে গ্রীস প্রবাসীর বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে ব্যর্থ হয় ডাকাত দল। গ্রামবাসী লাঠিশোটা নিয়ে এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় ডাকাতদল।
নিম্নে নবীগঞ্জ উপজেলার উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি ডাকাতির ঘটনার বর্ণনা দেয়া হল।
গত ২৮ ডিসেম্বরঃ বুধবার রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের হৈবতপুর গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার পুত্র সৌদি প্রবাসী মছদ্দর মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে ১০-১২ জন ডাকাত তালা ভেঙে ঘরে ঢোকে। এরপর তারা রুপচান বিবিকে বেঁধে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫ লক্ষাধীক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। পরে রুপচান বিবির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
গত ২৫ ডিসেম্বরঃ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আজলপুর (সিতারাবাদ) গ্রামে লন্ডন প্রবাসীর ভাই আনর মিয়ার বাড়িতে দুর্ধষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। সংঘবদ্ধ মুখোশধারী ডাকাতরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে নগদ ৪৫ হাজার টাকা, ৫টি দামী মোবাইল ফোন, ৩ ভরি স্বর্ণালংকারসহ ৩ লক্ষাধীক টাকার মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
গত ৮ ডিসেম্বরঃ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের লন্ডন প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ইফতেখার আলমের বাড়িতে দুর্ধষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা বাড়িতে হানা দিয়ে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৮টি দামী মোবাইল ফোন, নগদ ২০ হাজার টাকাসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
গত ৫ ডিসেম্বরঃ নবীগঞ্জ শহরতলী রুদ্রগ্রাম বাউসা নাদামপুর রোডে অবস্থিত লন্ডন প্রবাসী মোছাঃ রহিমা খাতুন ভিলায় গভীর রাতে প্রায় ২০ জনের একদল ডাকাত বাড়ীর দেওয়ালের কলাপসিবল গেইট ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে এক ভীতিকর ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ সময় বাড়ীর সবাইকে অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে হাত পা বেধেঁ মারপিট করে বাথরুমে নিয়ে আটকিয়ে রাখে। এবং ঐ বাড়ীর বসবাসকারি সরকারি এম্বুলেন্স চালক মোঃ ওয়ালিদ চৌধুরীর ঘরে থাকা এম্বুলেন্সটি সাবুল দিয়ে শক্ত আগাত করে গ্লাস ভেঙ্গে দেয়। এ সময় ইচ্ছা মতো ঘরের জিনিষপত্র তছনছ করে। পরে ডাকাতরা ঘরের বিভিন্ন সামানা নগদ ২০ হাজার টাকা স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল সেট এবং অনেক মালামাল সহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে চলে যায়।
গত ৪ ডিসেম্বরঃ নবীগঞ্জ শহরতলী পৌর এলাকার চরগাঁও ভিআইপি রোডে মাওলানা জুবায়ের আহমেদের বাসায় প্রায় ১৫ জন ডাকাত হানা দেয়। এসময় সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪টি মোবাইল, নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
ডিসেম্বর মাসের ৪টি আলোচিত ডাকাতির ঘটনা ছাড়াও এর আগে অনেক ঘটনা রয়েছে অজানা।
গত ১৬ নভেম্বরঃ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের আউশকান্দি রশিয়দিয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি হাজী সুহুল আমীনের বাড়ীতে ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল বাড়ীর লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারপিট করে নগদ টাকা, স্বর্নালংকার, কয়েকটি দামী মোবাইলসহ অন্তত ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
গত ১৬ মার্চঃ নবীগঞ্জ উপজেলার পুরানগাও গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় বাধা দেয়ায় ডাকাতরা বাড়ির গৃহকর্তাকে কুপিয়ে জখম করে।
পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডাকাতির শিকার পরিবারের লোকজন।
গত ৭ ফেব্রুয়ারী: নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামে এক রাতে দুটি বাড়ীতে দুর্ধ্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। ডাকাতরা ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ টাকা, ৪ টি মোবাইলসহ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
এদিকে, সম্প্রতি সদর ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামে ১ রাতে ৪ জন কৃষকের ৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও প্রতি রাতেই কোন না কোন গ্রামে সিদেল চুরি ও গরু চুরি সংগঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রামের সাধারন মানুষ রাত জেগে পাহারা দেওয়ার কারণে অনেক বাড়িতে চুর ও ডাকাতদল হানা দিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে। এনিয়ে নবীগঞ্জবাসীর মধ্যে চুর, ডাকাত আতংক বিরাজ করছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত