শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুর শিক্ষা অফিসের সহকারী আজহার লাপাত্তা



তাহিরপুর প্রতিনিধি::তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস সহকারি আজহার উদ্দিন বদলী ঠেকাতে কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই গত একমাস ধরে কর্মস্থলে টানা অনুপস্থিত আছেন। শিক্ষা কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সকল কাগজপত্র ও শিক্ষকদের চাকুরি বহি বন্ধ আলমারির চাবি তার কাছে রয়েছে। সেই চাবি নিয়েই লাপাত্তা আছেন আজহার উদ্দিন।

এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে আসা উপজেলার শিক্ষকরা। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

একাধিক শিক্ষক ও তাদের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, নানা কাজের জন্য অফিস সহকারি আজহার উদ্দিনকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কোন কাজ হয়নি। এখন টাকা ফেরত পেতে অফিস সহকারি আজহার উদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছেন না শিক্ষকরা।
জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর’১৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে তাহিরপুর শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস সহকারি
আজহার উদ্দিনকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে (স্ট্যান্ডরিলিজ) বদলী করা হয়। কিন্তু ১০ ডিসেম্বর থেকে গতকাল মঙ্গলবার ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাহিরপুর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাগজপত্র বুঝিয়ে বিদায় নেননি তিনি।

বদলী হওয়া নতুন কর্মস্থল হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জেও যোগদান করেননি। তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সকল নথিই আজহার উদ্দিনের কাছে থাকায় এখানকার দাপ্তরিক কাজে বিঘœ ঘটছে। এদিকে অফিস সহকারি আজহার উদ্দিন আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান না করায় সেখানেও অফিসের কাজে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে অফিস সহকারি আজহার উদ্দিন তার বদলী ঠেকাতে ঢাকায় তদবীরে ব্যস্ত রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, বিভিন্ন কাজের জন্য তারা অফিস সহকারি আজহার উদ্দিনকে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কাজ হয়নি। এখন তারা টাকা ফেরত পেতে আজহার উদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছেন না। বিষয়টি তারা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অফিস সহকারি আজহার উদ্দিনের সাথে কথা বলতে চাইলে তার ব্যক্তিগত দু’টি মেবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তাহিরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার গোলাম রাব্বী জাহান বলেন,‘আজহার উদ্দিন স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ। জানা গেছে তিনি সেখানেও যোগদান করেননি। এদিকে আমার অফিসের কাগজপত্রও এখন পর্যন্ত বুঝিয়ে যাননি। যার দরুন আমাদের কাজকর্মে খুবই সমস্যা হচ্ছে। এই বিষয়টি আমি মৌখিক ও লিখিতভাবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।’ শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের নামে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, আমাকেও কয়েকজন শিক্ষক মৌখিকভাবে জানিয়েছেন আজহার উদ্দিনকে বিভিন্ন কাজের জন্য টাকা দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য শিক্ষকদের বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

তিনি আরো জানান, আজহার উদ্দিন তাহিরপুর শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর কাছে বলেছেন তিনি নাকি অনত্র বদলী হওয়ার জন্য ডিজিতে চেষ্টা করছেন। ওই কর্মচারী বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মাহফুজ বলেন,‘অফিস সহকারি আজহার উদ্দিন তাহিরপুর কর্মস্থল থেকে বদলী হয়ে আমার উপজেলার যোগদান করার কথা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত যোগদান করেননি। আমি তাহিরপুর শিক্ষা অফিসে কথা বলেছি তিনি তাহিরপুরেও নেই। যার কারণে দুই উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাজ কর্মে বিঘœতা ঘটছে।’

তাহিরপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে বলেন,‘অফিস সহকারি আজহার উদ্দিন কাগজপত্র বুঝিয়ে না দেওয়ায় দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে শিক্ষকরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। অবসরে যাওয়া শিক্ষকগণের বিভিন্ন ধরণের কাজ আটকে আছে চাকুরি বহি আলমারিতে তালাবদ্ধ থাকায়। তিনি আরও জানান, কয়েকজন শিক্ষক তাকে জানিয়েছেন টাইমস্কেল, চাকুরী চলাকালীন অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট সংযুক্ত, পেনশন মঞ্জুরী করতে আজহার উদ্দিনকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বর থেকে তিনি টানা অনুপস্থিত থাকায় ওই শিক্ষকরা তাকে খুঁেজ পাচ্ছেন না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হজরত আলী বলেন,‘তাহিরপুর শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারি আজহার উদ্দিনের দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির বিষয়টি জানা গেছে। আমরা শুনেছি তিনি ঢাকায় আছেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শুনা যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত