শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজনগরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, দোকান লুট, গুলি



রাজনগর প্রতিনিধি ::পায়ের উপর পা তুলে বসা নিয়ে মারামারির জেরে মৌলভীবাজারের রাজনগরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দোকান ভাঙচুর, ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এতে অন্তত ১০জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। গত রোববার রাত ৯টায় রাজনগর থানার পাশে কলেজ পয়েন্টে রুবেল গ্রুপ ও ফৌজি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। তবে, পুলিশ গুলির বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
গত ৫ জানুয়ারি রাজনগর ডিগ্রি কলেজ পয়েন্টে মোড়ে রাজনগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদের কর্মী লিছান পায়ের উপর পা তুলে বসেছিলেন। এসময় কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদির ফৌজির কর্মীরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে উভেয় পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রোববার রাত ৮টার সময় রাজনগর ডিগ্রি কলেজ পয়েন্ট মোড়ে ফৌজি ও তার গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মী নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় রুবেল গ্রুপের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী সেখানে যান। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রুবেল গ্রুপের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এসময় আত্মরক্ষার্থে তারা একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে সেখানে ফৌজি গুপের অন্যান্য কর্মী জড়ো হন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে রাজনগর থানার পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে রুবেল গ্রুপ মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের গোবিনন্দবাটিতে ও ফৌজি গ্রুপ আবারো কলেজ পয়েন্টে জড়ো হয়। আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রুবেল গ্রুপের কর্মীরা কলেজ পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে অপর গ্রুপকে ধাওয়া দেয়। এসময় তাঁরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও থানার সমানে ফৌজিদের মালিকানাধীন দোকানের সাটার ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাজনগর থানার পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। এসময় ৬-৭ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এঘটনায় আব্দুল করিম, সুহেল, ইকবাল খান ও লিছানসহ ছাত্রলীগের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগের আব্দুল কাদির ফৌজি বলেন, আমরা বসে গল্প করছিলাম। এসময় রুবেলের নেতৃত্বে আমাদের অতর্কিতে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করলেও এক যুবলীগ নেতার নির্দেশে তাঁর গ্রামের মানুষ ট্রাক দিয়ে নিয়ে এসে আবারো হামলা চালায় এবং লুটপাট করে। সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমদ বলেন, ৫ তারিখে তারা ছাত্রলীগের এক কর্মীকে অন্যায়ভাবে মারধর করে। রোববার রাতে তারা আমার কিছু কর্মী সেখানে গেলে তাঁরা আবারো হামলা চালায়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দোকান ভাঙচুর ও লুট সম্পূর্ণ মিথ্যা।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, উভয় পক্ষকে পুলিশ কলেজ পয়েন্ট থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে রুবেল গ্রুপ গোবিন্দবাটিতে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে হামলা চালালে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে তারা গোবিন্দবাটিতে দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় পটকা ফোটানো হয়। ফৌজি গ্রুপের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত