শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জামালগঞ্জে ইউএনও’র মোবাইল ক্লোনিং করে চাঁদাবাজি



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোবাইল ফোন ক্লোন করে চাঁদাদাবির চেষ্টা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে হ্যাকাররা। জামালগঞ্জে নতুন যোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তীর নিজ নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত গ্রামীণ মোবাইল সিম নম্বারটি ক্লোন করে হ্যাকাররা।

গত মঙ্গলবার ইউএনও’র ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের নম্বর ব্যবহার করে সদর ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির কাছে মোটা অংকের চাঁদা চায় হ্যাকাররা। বিষয়টি ধরা পড়ায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন ইউএনও প্রসুণ কুমার চক্রবর্তী।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গ্রামীণ ফোনের সিম ক্লোন করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেককে ফোন করে ইউএনও পরিচয় দিয়ে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে জনপ্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা মুখ না খুললেও সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাত সাড়ে ৮ টায় থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন ও ঘটনার বিস্তারিত জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পরামর্শ দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও বিষয়টি জানান। এরপর থানায় সাধারণ ডায়রী করেন তিনি।

জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহন বলেন,‘ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে মঙ্গলবার ২টার পরে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, চেয়ারম্যান সাব মিনিস্ট্রি থেকে ২০০ টনের একটা বরাদ্দ এসেছে, আমি ভাবছি আপনাকে দেব। জরুরী ভিত্তিতে ১ লক্ষ টাকা পাঠান। আমি কিছু টাকা দিয়েছিও। পুরো টাকা পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলতে গেলে বিষয়টি ধরা পরে।’

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেন,‘মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের নম্বরটি ক্লোন করে অনেকের কাছে টাকা পয়সা চেয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাত আটটার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর ফোন নম্বরটি ক্লোন হওয়ার বিষয়টি আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছি’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন,‘বিষয়টি আমি জানতাম না, মঙ্গলবার বিকেলে সদরের চেয়ারম্যান ফয়জুল আলম মোহন প্রথমে জানান। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সকলকে ও তাৎক্ষণিকভাবে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি ও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত