রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারায় রাক্ষুসী সুরমার ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::রাক্ষসী সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিলীন হচ্ছে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নানা স্থাপনা। দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের সামনে অধিকাংশ দোকানপাট, পাকা সড়ক, বসতঘর, মসজিদ-মাদ্রাসা, ফসলি-জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই সুরমা নদী গিলে নিয়েছে। বাঁশের খুটি ও বালির বস্তা দিয়েও এই অঞ্চলের মানুষজন ভাঙ্গন ঠেকাতে পাছে না। বিশেষ করে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের সামনে ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে।ভাঙ্গন প্রতিরোধ করতে এলাকাবাসী একাধিকবার সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না-করায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে জীবন বাঁচাতে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ভয়াবহ এই নদী ভাঙ্গন দ্রুত গতিতে রোধ না-করতে পারলে অচিরে নদীগর্ভে দোয়ারাবাজার উপজেলার আরও অনেক সরকারি দপ্তর, দোকান, বসতভিটা ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে নদীভাঙ্গন রোধে কয়েক দফায় সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন করলেও এখনও কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নদীভাঙ্গন পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতি হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিগণকে দায়ী করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।লক্ষ্মীবাউর গ্রামের কৃষক আহমদ আলী বলেন- “নদীর ভাঙ্গনে আমার পুরানো বাড়ি শেষ হইছে। খেতের জমিও কোনদিন হঠাৎ যাইবোগি, বড় চিন্তায় আছি। আমরা হারাদিন চিল্লাইলে কে হুনবো আমরার কথা আর বুঝবো আমরা ব্যথা।”বেতুরা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ ছাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- “সরকার দলের নেতারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে, দেশে উন্নয়নের জোয়ার বাইছে। আমাদের নদীভাঙ্গন কি সরকার দলের নেতাদের নজরে পড়ে না।”সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে- সুরমার নদীর তীরবর্তী ছাতক উপজেলার বেতুরা, লক্ষ্মীবাউর, দোয়ারাজার উপজেলার আমবাড়ী, আজমপুর, শরিফপুর, মাছিমপুর, বোজনা, মাঝেরগাঁও, মঙ্গলারগাঁও, হরিপুর, কাঞ্চনপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের অসংখ্য বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মারাত্মক হুমকির মুখে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়ক যোযোগ ব্যবস্থা। যে কোন মুহূর্তে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সড়ক যোগাযোগ। ছাতক সড়ক ও জনপথের উদ্যোগে ভাঙ্গন রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী (বীর প্রতীক) বলেন- “সুরমা নদীভাঙ্গন দোয়ারাবাজার উপজেলার অন্যতম সমস্যা। এক বছর ধরে নদীভাঙ্গনের প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। নদীভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রায় এক বছর পূর্বে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পটির এখনও অনুমোদন হয়নি।”জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এএসডিও রঞ্জন কুমার দাস বলেন- “নদীভাঙ্গন রোধের জন্য ভাঙ্গন এলাকার জরিপ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত