শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজনগরের দুটি জলমহালে লুটপাটে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা



কুলাউড়া প্র্রতিনিধি:: রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের শালকাটুয়া মাঝের বান্দ জলমহালে চলছে হরিলুট। জলমহালদুটি ইজারা না হওয়ায় স্থানীয় ৩টি পক্ষ একজোট হয়ে লুটপাট চালাচ্ছে। এতে দুই জলমহাল থেকে সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা আমলে নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের বৃহৎ জলমহাল শালকাটুয়া ও মাঝেরবান্দ (বদ্ধ) জলমহাল ১৪২৩ থেকে ১৪২৮ বাংলা সনে ৬ বছর মেয়াদী উন্নয় প্রকল্পে ইজারা নেয়ার জন্য আলবারাকা, শালকাটুয়া, পূর্ব রক্তা, বেতাহুঞ্জা, আলিফ ও সুরমা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ইজারা বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রনালয় থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক মাঝেরবান্দ (বব্ধ) ও শালকাটুয়া (বদ্ধ) জলমহাল দুটির ইজারা বন্দোবস্ত বিষয়ে বিভন্ন মামলা ও এর বিস্তারিত পরিস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে মন্ত্রণালয় থেকে শালকাটুয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ও আল বারাকা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যে বিল দু’টি ইজারা বন্দোবস্ত প্রদান করে।
এদিকে ১৪১৭-১৪১৯ মেয়াদে ইজারা বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য একমাত্র আবেদনকারী শাহমুরাদ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অনুকুলে প্রদান না করায় তিনি বিভাগীয় কমিশনার আদালতে (রাজস্ব মিস আপিল মামলা (নং ক-২/২০১০) করেন। বিভাগীয় কমিশনার আদালতের রায় জেলা প্রশাসক বাস্তবায়ন না করায় জেলা প্রশাসকসহ সংম্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করে কয়েকটি মামলা করেন। সর্বশেষ বিভাগীয় কমিশনার আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য তিনি হাইকোর্টে রীট পিটিশন (নং-১০৩৬/২০১৬) করেন। পরে আদালত এতে নিষেধাজ্ঞা ও রুল জারি করেন। একই সমেয় পূর্ব রক্তা ও বেতাহুঞ্জা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি হাইকোর্টে পৃথক দুটি (১০২১৮/১৬ ও ১০২১৯/১৬) রীট পিটিশন করে। এসব মামলায়ও আদালত রুল জারি করেন। এদিকে বিভিন্ন কারণে ওই জলমহাল দুটির ইজারা বন্দোবস্ত স্থগিত থাকায় ইজারা গ্রহিতা ও দুটি রীট কারী পক্ষ একজোট হয়ে লুটপাট করতে জলমহাল দুটিতে নেমে পড়েছে। এতে সরকার উভয় জলমহাল থেকে কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে।
এ বিষয়ে জনৈক ফজলুল হক মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর-সদর) আসনের এমপি সৈয়দা সায়রা মহসিনের সুপারিশ সহকারে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন দেন। জেলা প্রশাসক এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও ওই জলমহালে নিজেদের জমি রয়েছে এবং সীমানা নির্ধারণের ব্যাপারে রীট পিটিশন (নং ১৪১২৮/২০১৬) করেন জনৈক মোঃ ফজলুল হক। এ ব্যাপারে আদালত সীমানা নির্ধারণের রায় দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ওই জমি দখল করেই চলছে এ জলমহাল দুটির হরিলুট। এতে সরকার কোটি রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এব্যাপারে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, জলমহাল দুটিতে হাইকোর্টে স্থিতাদেশ আদেশ। এ অবস্থায় কেউ বিলে নামতে পারবে না। লিখিত অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে মৌখিকভাবে অবগত আছি। আমাদের নজরদারিও রয়েছে। এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত