রবিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ায় পাষন্ড ছেলের হামলায় বৃদ্ধা মা আহত



কুলাউড়া প্রতিনিধি:: কুলাউড়ায় পাষন্ড ছেলে কর্তৃক বৃদ্ধা মাতাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছেলের হামরায় বৃদ্ধা মাতা কমরুন নেছা (৭০) বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের বেডে শুয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। তিনি পৌর শহরের আহমদাবাদ এলাকার মৃত মাওলানা আহমদ খানের স্ত্রী। এদিকে পাষন্ড ছেলে জাকির হোসেন খানকে প্রধান আসামী করে কুলাউড়া থানায় ১৯ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার আহত কমরুন নেছার সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে এনাম হোসেন খানের স্ত্রী মাজেদা আক্তার বিউটি বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আহমদাবাদ এলাকাসহ পুরো শহর জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। দাযেরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক পূর্ব বিরোধের জের ধরে জাকির তার মাতাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এসময় তিনির ছোট ছেলের স্ত্রী মাজেদা আক্তার বিউটি জাকিরকে থামাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে কমরুন নেছাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ জাকির হোসেন খানকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুরো শহরের সচেতন সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র শফি আলম ইউনুছ, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনজুর আলম খোকন, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল আহমদ শামিম ও ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কায়ছার আরিফ হাসপাতালে আহত কমরুন নেছাকে দেখতে যান। এসময় তিনি তিনি কান্না কন্ঠে মেয়রের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চান। ‘এ ঘটনার পর থেকে লম্পট জাকির হোসেন খান পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।’ স্থানীয় অনেকেই জানান, লম্পট-জাকির হোসেন তার মাতাকে পূর্বে আরো কয়েকবার নির্যাতন করেছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকার অনেকেই।
৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনজুরুল আলম খোকন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাদের বাসায় গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। পাশাপাশি প্রতিবেশিরাও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ন্যাক্কাজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শামছুদ্দোহা (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত