মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

২০১৫ সালের জুলাই মাসে ঝুমাকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করি —- বাহার উদ্দিন



নিউজ ডেস্ক ::২০১৫ সালের জুলাই মাসে আমি ঝুমাকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করি। ঘটনার দিন ঝুমাকে হাত ধরে বাড়িতে নেয়ার চেষ্টা করলে ঝুমা ও তার মা করিমা বেগম আমাকে মারধরের চেষ্টা করলে আমি সাথে থাকা ছুরি দিয়ে ঝুমাকে আঘাত করি। কথাগুলো কলেজ ছাত্রী ঝুমাকে ছুরিকাঘাতকারী বাহার উদ্দিনের। গতকাল জকিগঞ্জ থানায় পুলিশের প্রেসব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বাহার কথাগুলো বলে।
ঝুমার তো বিয়ের বয়স হয়নি, তাহলে কীভাবে কোর্ট ম্যারেজ হলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাহার জানান, বয়স বাড়িয়ে তিনি ঝুমাকে বিয়ে করেছেন। তবে ঝুমাকে বিয়ের বিষয়ে বৈধ কোন কাগজপত্র বাহারের আছে কিনা তা জানা যায়নি। বাহার ইছামতি কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বাহারকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসার পর জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, সিলেটের ডিআইজি, পুলিশ সুপারের তাগাদায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে জকিগঞ্জ থানাপুলিশ বাহারকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জানান, বাহার আহমদ রসুলপুর গ্রামের আবদুল গফুর পচনের ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৈয়দ ইমরোজ তারেক জানান, বাহারের হাতে একটি মোবাইল ছিল। সেই মোবাইলফোনের ব্যবহার দেখে পুলিশ বাহারের অবস্থান নিশ্চিত হয়। সে সূত্র ধরে বাহারের ফুফাতো ভাই ইলাবাজের আব্দুল করিমের পুত্র সিদ্দিকুর রহমানকে কানাইঘাট থেকে আটক করা হয়। সিদ্দিকের তথ্যমতো শরীফগঞ্জের সহিদাবাদ থেকে বাহারের চাচাত দুলাভাই মখলিসুর রহমানকে আটক করা হয়। মখলিসের তথ্যানুসারে হাতিডহর থেকে বাহারের অপর ফুফাতো ভাই বদরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। বদরুলের তথ্য পেয়েই গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মির্জারচক হাওর এলাকা থেকে বাহারকে আটক করা হয়।
বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জকিগঞ্জের মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের দিনমজুর বাবার সন্তান শিক্ষার্থী এলিনা আক্তার ঝুমার ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি বাহার উদ্দিনকে ঘটনার চার দিন পর বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় সুলতানপুর ইউনিয়নের মির্জারচকের হাওরের ঝোপজঙ্গলের ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বাহারকে সাথে নিয়ে তার বাড়ি থেকে রক্তমাখা ছুরি, বাহারের ব্যবহৃত মোবাইলফোন ও ঝুমার বাড়ি থেকে রক্তমাখা ছেঁড়া জামা, ওড়না ও বোরকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার।
এদিকে ঝুমার ভাই ছালেহ আহমদ, পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বাহারের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে তার বোনকে আক্রমণ করেছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই। বাহারের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
উল্লেখ্য, ঝুমা আক্তারকে গত রোববার ছুরিকাঘাত করেন বাহার। ঝুমা বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন তার মা করিমা বেগম। মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুমাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বাহার। তাঁর বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঝুমার ওপর হামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত বাহারের বড়ভাই নাসির উদ্দিনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। গ্রেপ্তারের পর বাহারকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। তিনি ছিলেন ভাবলেশহীন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত