বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কে টমটম ও বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষ : গাড়ি ভাঙচুর, অবরোধ



নবীগঞ্জ সংবাদদাতা ::
হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে যাত্রী উঠানামা নিয়ে বিরোধের জের ধরে টমটম (ইজিবাইক) শ্রমিকদের বাস ভাঙচুরের ঘটনায় উভয় পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রমিক যাত্রীসহ ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাস শ্রমিকরা গতকাল সোমবার প্রায় ৫ ঘন্টা হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বাস ভাঙচুরের অভিযোগে ২ টমটম শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাসের চেকারদের সাথে যাত্রী উঠানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টমটম শ্রমিকদের বিরোধ চলে আসছিল। বাসগুলো বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী উঠালে টমটম শ্রমিকরা বাধা দেন। আবার কোনো স্থানে বাসে যাত্রী উঠালে টমটম শ্রমিকরা বাধা দিয়ে থাকেন। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ইতঃপূর্বে বাস শ্রমিকরা ইজিবাইক ভাঙচুর করেন। ইজিবাইক চালকদের নির্যাতন করার প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে টমটম শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছেন। গত শুক্রবার দিনভর শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করে বাসশ্রমিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। গত রোববার সকাল ১১টার দিকে আলীগঞ্জ বাজারে টমটম শ্রমিকরা মোৗলভীবাজার জ- ১১-০০৪৬, সিলেট ট-১১-০২৪৬, মৌ-বাজার জ- ০৪০০১৮, সিলেট ব-১৬২২, সিলেট-জ ১১৭৬ নম্বর বাস সহ ৮টি বাস ভাঙচুর করে। এ সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। এ সময় বাসের শ্রমিকরা বাধা দিলে তাদের সাথে টমটম শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয় মুরুব্বিয়ান এসে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে টমটম শ্রমিকরা উজিরপুর এলাকায় গিয়ে বাসের চেকারকে মারধর করলে সেখানেও চেকারের আত্মীয়স্বজন তাঁর পক্ষ নিয়ে টমটম শ্রমিকদেও উপর হামলা করেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় মুরুব্বিয়ান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে বাস ভাঙচুরের খবর পেয়ে শ্রমিকরা হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কের অগ্রদূত ফিলিং স্টেশনের সামনে রাস্তার উপর বাস এলোমেলো করে রেখে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ হয়ে নবীগঞ্জের উপর দিয়ে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারী হবিগঞ্জ সদর, বানিয়াচঙ্গ ও নবীগঞ্জ উপজেলার জনগণসহ পাশ্ববর্তী শচীন্দ্র ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা ৪টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.স.ম. শামছুর রহমান ভূইয়া ও বানিয়াচঙ্গ থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস ভাঙচুরের অভিযোগে দৌলতপুর গ্রামের টমটম শ্রমিকনেতা ধন মিয়া ও আব্দুল আউয়ালকে আটক করেন। পরে ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী বিচারের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ রোডে মোটর মালিক গ্রুপের সেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ জানান, টমটম চালকরা দীর্ঘদিন স্টপেজগুলোতে বাসের সামনে টমটম রাখে এবং বাসের যাত্রীদের জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যান। এতে বাস শ্রমিকরা বাধা দিলে তাদেরকে টমটম শ্রমিকরা লাঞ্ছিত করেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কের ইমামবাড়ি টমটম মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা ও শ্রমিক ধন মিয়ার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আলীগঞ্জ বাজারে বাস আটক করে ভাঙচুর করেন। এ সময় বাস শ্রমিকরা বাধা দিলে তাদের সাথে টমটম শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে।
জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সজিব আলী জানান, টমটম চালক ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বাস শ্রমিকদের নির্যাতন করে আসছেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে তারা আলীগঞ্জ বাজারের কাছে ৮/১০টি বাস ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
বানিয়াচঙ্গ থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, যাত্রী উঠা নিয়ে বাস শ্রমিক ও টমটম শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জের ধরে গতকাল আলীগঞ্জ বাজারে টমটম শ্রমিকরা বাস ভাঙচুর করেন। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা দু’জনকে আটক করেছি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকদের পক্ষ থেকে মামলা দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত