শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভিসাধারী বাংলাদেশিদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরামর্শ



নিউজ ডেস্ক: নিষিদ্ধ সাতটি মুসলিম দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও বাংলাদেশিদের মধ্যে, বিশেষত যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, এমন অভিবাসীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিসাধারী ব্যক্তিদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ড্রাম’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত হবে। এই সংস্থার একজন মুখপাত্র জানান, যাদের গ্রিন কার্ড রয়েছে, তাদের এই মুহূর্তে দেশের বাইরে ভ্রমণে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি বলেন, গত রোববার জেএফকে এয়ারপোর্টে তারা মরক্কোর একটি পরিবারের সাক্ষাৎ পেয়েছেন, যাদের গ্রিন কার্ডধারী একাধিক সদস্যকে দুবাই এয়ারপোর্টে আটকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নিষিদ্ধঘোষিত সাতটি দেশের মধ্যে মরক্কো নেই।

‘ড্রাম’ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিরা, যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের সত্বর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে। এই সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এমন ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন, যারা এফ-১ ভিসা পেয়েছেন, তাদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

গত রোববার নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের এই নির্দেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধবিরোধী’ ও ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে। এদিন স্টাচু অব লিবার্টির অনতিদূরে ব্যাটারি পার্কে বিভিন্ন বর্ণের ও দেশের কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। অনেকের হাতে ধরা প্লাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমি একজন মুসলিম’। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন।

নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে বিমানবন্দরে আটক বৈধ ভিসাধারী যাত্রীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এখনো কতজন আটক রয়েছেন, সে কথা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করে জানায়নি। বোস্টনের একটি আদালতও অনুরূপ আদেশ দেওয়ায় লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে কয়েকজন যাত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেছেন, একটি ধর্মের মানুষকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ করার এই চেষ্টা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে। প্রয়োজনবোধে তারা আদালতের আশ্রয় নেবেন। মেয়র ডি ব্লাজিও সিএনএনকে বলেন, এই শহরে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা পাঁচ লাখের মতো হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ট্রাম্পের এই নিষিদ্ধ আদেশ সম্ভবত মুসলিমদের তালিকাভুক্ত করার প্রথম পদক্ষেপ। সূত্র: প্রথম আলো

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত