শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বই মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল মাসব্যাপী একুশের বইমেলার। প্রতি বছরের মতো এবারও ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রেরণার উৎস। একুশ আমাদের প্রতিবাদের ভাষা শেখায় ও দাবি আদায়ের শক্তি যোগায়। এ মেলাকে কেন্দ্র করে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ এবং প্রবাসী বাঙালিদের বিপুল সমাগম ঘটে। এই মেলা এখন পরিণত হয়েছে বৃহত্তর বাঙালির মিলন মেলায়।
তিনি বলেন, কানাডা প্রবাসী দুজন বাঙালির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের প্রস্তাব পাস হয়। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে আমাদের ত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা একাডেমি আমাদের ভাষাকে উন্নত করতে অনেক সুযোগ করে দিচ্ছে। অমর একুশে গ্রন্থ মেলা তার যাত্রা শুরু তিন দশক পেরিয়ে পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি বাংলা একাডেমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের জন্য একটি ব্রেইল প্রকাশনা করেছে। এই উদ্যোগ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মনে আলো যোগাবে। খুব শিগগির ‘বিষাদ সিন্ধু’র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালে আমরা সরকার গঠন করতে না পারায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা আবার সেই কাজ শুরু করি। এই ইনস্টিটিউট এখন ইউনেস্কোর ক্যাটাগড়ি-২ মর্যাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
অমর একুশে বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৫ এর জন্য ১০টি ক্যাটাগরিতে মনোনীত ১১ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় আলতাফ হোসেন; কথাসাহিত্যে শাহীন আখতার; প্রবন্ধে যৌথভাবে আবুল মোমেন ও ড. আতিউর রহমান; গবেষণায় মনিরুজ্জামান; অনুবাদে আবদুস সেলিম; মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে তাজুল মোহম্মদ; আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণকাহিনী ক্যাটাগরিতে ফারুক চৌধুরী; নাটকে মাসুম রেজা; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশে শরীফ খান এবং শিশুসাহিত্যে সুজন বড়ুয়া।
এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮২টি ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ৩২০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টল দেওয়া হয়েছে। এছড়া বাংলা একাডেমিসহ ১৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ১৫টি প্যাভিলিয়ন এবং ৯২টি লিটল ম্যাগাজিন রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫০টি প্রকাশনা সংস্থা এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৩৫১টি প্রকাশনা সংস্থা।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত