বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

না ফেরার দেশে সুরঞ্জিত : শেষকৃত্য সুনামগঞ্জে



নিউজ ডেস্ক :না ফেরার দেশে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। 

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য হবে প্রবীণ রাজনীতিক সদ্যপ্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ।

রোববার সকালে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ভোর রাত চার টার দিকে সুরঞ্জিত চলে যান না ফেরার দেশে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্যের মৃত্যুর খবর শোনার পর ল্যাব এইড হাসপাতালে ছুটে যান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহে শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাঁর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অবগত রয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, সকাল নয়টায় তাঁর মরদেহ ঢাকার বাসভবন জিগাতলায় নেওয়া হবে। বেলা ১২টায়  নেয়া হবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। বিকেল তিনটায় মরদেহ নেয়া হবে সংসদ ভবনে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এর পর সংসদে ‘অবিচুয়ারি রেফারেন্স’হবে। আগামীকাল সোমবার সকাল নয়টায় মরদেহ যাবে সিলেটে। সকাল ১০টায় সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা ​হবে। বেলা ১১টায় মরদেহ যাবে সুনামগঞ্জ। এরপর সেখান থেকে মরদেহ তাঁর নির্বাচিত এলাকা দিরাই ও শাল্লাতে নেয়া হবে।

হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাত ৯টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডা. বরেন চক্রবর্তী জানান, লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায়  রাত ১০ টার দিকে ১৫ মিনিটের জন্য তার হার্টবিট ছিল না। চিকিৎসকদের চেষ্টায় পুনরায় হার্টবিট ফিরে আসলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

ডা. বরেন চক্রবর্তী আরও  বলেন, ‘তাঁকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের  আগ্রহ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।’

গত বৃহস্পতিবার হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

বামপন্থী রাজনীতির মধ্য দিয়ে শুরু

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৫ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জের আনোয়ারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা কমিটির অন্যতম সদস্য সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থী রাজনীতির মধ্য দিয়ে। স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদসহ তিনি সাত বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত ছিলেন বর্তমান সংসদে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

সুরঞ্জিত ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পরে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ল পাসের পর কিছু দিন তিনি আইন পেশায়ও যুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পিকিং ও মস্কো ধারায় দুই টুকরা হলে মাওলানা ভাসানীকে ত্যাগ করে সুরঞ্জিত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে ন্যাপ থেকে জয়ী হয়ে দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। পরে ন্যাপের ভাঙনের পর গণতন্ত্রী পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১- এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে জয়ী হন।

পঞ্চম সংসদের সদস্য থাকাকালেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে প্রথমে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে সুরঞ্জিত ভোটে হেরে গেলেও পরে হবিগঞ্জের একটি আসনে উপ-নির্বাচন করে তিনি বিজয়ী হন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন তিনি। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হন। দলীয় মনোনয়নে এমপি হলেও ওয়ান-ইলেভেনের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্য চার জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সুরঞ্জিতও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর পদটি হারান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সুরঞ্জিতকে আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। পরে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর রেলমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুরঞ্জিত। কিন্তু ব্যক্তিগত সহকারীর দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে পরের বছর ১৬ এপ্রিল মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত