মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার দাপট বলে কথা! নবীগঞ্জের দীঘলবাকে প্রভাবশালীদের তান্ডবে অসহায় এক পরিবার ৩ যুবতি সহ ১বৃদ্ধা মহিলা দিশেহারা! যে কোন সময় তাদের উপর নেমে আসতে পারে কালবৈশাখী ঝড়! এসব দেখার যেন কেউ নাই?



নবীগঞ্জ প্রতিনিধি::সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য না থাকায় অসহায় পরিবারের হাল ধরেন মৃত সমরু মিয়ার স্ত্রী সাহেদা বেগম। কোন পুত্র সন্তান নেই তবে, ৫ কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদেরকে ভরণ পোষন, লেখা- পড়া সহ যাবতীয় ভার পড়ে মা সাহেদা বেগমের উপর। কোন উপায় না পেয়ে বাবার বাড়ি ও আত্মীয় স্বজনদের সহযোগীতায় মেয়েদের ৯ম ও দশম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করিয়েছেন। আস্তে আস্তে ওই মেয়েগুলো বড় হতে থাকে। এর মধ্যে ২ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। একদিকে টানাপুড়ার সংসার অন্যদিকে যুবতি স্কুল পড়–য়া ২ মেয়ে নিয়ে অনেক দুঃচিন্তা এর মধ্যে বসবাসের একমাত্র সম্বল ওই বাড়ির উপর কু-নজর পড়ে স্থানীয় কিছু ভূমি খেকোর। অবশেষে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দিন দুপুরে বাড়িতে হামলা করে গাছ গাছালি কাটা দেখে মা- মেয়ে ৪জন আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পান। ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানাযায়, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামীগ নেতা মরহুম ছমরু মিয়া ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে মারা যান। তার ৫ কন্যা সন্তান ও ১ ন্ত্রী রয়েছে। এতে তার স্ত্রী সন্তানদের জন্য সম্পত্তি ৭২শতক ভিটে বাড়ি রেখে যান। মারা যাওয়ার প্রায় বছর খানেক পর ঘরের পাশ্ববর্তী ৭শতক জায়গা জোর পূর্বক দখল করে দালাল নির্মান করে বসবাস করে আসছেন ওই গ্রামের আপ্তাব উল্লার পুত্র কাপ্তান, শিশু ও আঙ্গুর মিয়া। এরপরও ওই প্রভাবশালী ভূমি খেকোরা শান্ত হয় নাই! একের পর এক ফন্দি খোজঁতে থাকে পুরোপুরি সম্পত্তি গ্রাস করার। গত জানুয়ারী মাস থেকে ওৎ পেতে থাকে ওই অসহায় পরিবারের বাড়ি রকম ভূমিটা পুরোপুরি নেয়ার জন্য। অপর অবিবাহিত যুবতি ২ কন্যা ও স্ত্রী শাহেদা বেগম রয়েছে ওই বাড়িতে। কাপ্তান মিয়া গংরা এই অসহায় পরিবারের লোকজনের উপর প্রতিনিয়তই বিভিন্ন রকম অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তারা নাম প্রকাশে অনিচ্চুক স্বর্থেও বলেছেন কাপ্তান গংরা যে কত ভয়ংকর হতে পারে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার এক মাত্র উদাহরনই হচ্ছে এই অসহায় পরিবারটি।
এ ব্যাপারে মাটিতে লুটে পড়ে কান্না জড়িত কন্ঠে পপি আক্তার জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আদিত্তপুর গ্রামের তার স্বামী ডুবাই প্রবাসী মাহমদ মিয়ার সাথে প্রায় ৯/১০ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। তার স্বামী ৬বছর ধরে প্রবাসে থাকার কারণে বাবার বাড়ি দৌলতপুরে বসবাস করে আসছে। সবার মধ্যে সে বড় এবং ২য় ও ৩য় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মা ও ছোট ২ বোনকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছে। কিন্তু প্রভাবশালী কাপ্তান, প্রবাসী শিশু, আঙ্গুর, বশির ও তার চাচাতো ভাই রিপন সহ তাদের ভাড়াটিয়া সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আমাদের উপর একের পর এক অমানুষিক নির্যাতন করে আসছে। এমনকি আমাদের ভিটে মাঠি উচ্ছেদ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমরা অসহায়, ন্যায় বিচার কোথায় পাব? এই সমাজে কি আমাদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই? এমন কথা বলতে বলতে মাঠিতে লুটে পড়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পপি আক্তার। তার ছোট বোন তাদের এ সব তান্ডব লিলার কান্ড মোবাইল ফোনে ধারন করার সময় পার্শ্ববর্তী জামা গাঁও গ্রামের ভাড়াটিয়া বশির মিয়া আমার বোনকে দৌড়ায়ে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
এ ব্যাপারে সমরু মিয়ার স্ত্রী শাহেদা বিবির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ৫টি মেয়ে নিয়ে কি কষ্টে জীবন সংগ্রাম করে বেঁেচ আছি, তা আমার আল্লাহ রব্বুল আলামীন ছাড়া আর কেউ জানেন না। এরই মধ্যে স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়ির ৭২ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে প্রথমেই ৭শতক ভূমি জোরে বলে নিয়ে যায়। এখন আবার ১৫ শতক জায়গা গত মাঠ জরিপে গোপনে প্রভাবশালী ভূমি খেকো ও সন্ত্রাস ঐ গ্রামের কাপ্তান মিয়া গংরা জ্বাল জালিয়াতির মাধ্যমে তার নামে রেকর্ড করে নিয়ে যায়। এ প্রতারনার খবরে আমাদের সম্পত্তি ফিরে পেতে আমার মেয়ে কপি বেগম, হেপি বেগম, অলপি আক্তার, জেবি আক্তার, রেজবি আক্তার ও আমি শাহেদা বেগম বাদী হয়ে বিচারক, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল হবিগঞ্জ মোকদ্দমা ৪৩/১৫ইং একটি মামলা দায়ের করি। এই জায়গাটা ছিল আমার স্বামীর বাড়ি রকম জায়গা। এই জায়গাটা ওই প্রভাবশালীরা দখল করে নিতে অনেক কলা কৌশল অবলম্বন করে গত ১৫/১৬দিন পূর্বে কপি, হেপি ও আমাকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি ধামকি দিয়ে যায়। এমন কি বলে যায়, যদি ফিরে এসে তদের দেখি তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবো! এতেও আমি আমার স্বামীর সম্পত্তি ছেড়ে না যাওয়ায় পরে দিন পূর্ণরায় দিন- দুপুরে কাপ্তান গংরা তাদের হাতে থাকা দ্যা, রামদা, লাঠি, কুড়াল সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ- পালা কাটে আর বলে, যদি এই বাড়ি ছেড়ে তরা না যাস তাহলে তদেরকেও এভাবে জবাই করে নদীতে ফেলে দেব। কাপ্তান গংদের এ হুমকি ধামকির কারণে আমি আমার ৩ যুবতি মেয়েকে নিয়ে মান সম্মানের ভয়ে আত্মরক্ষার্থে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়রাম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তি বর্গের সরনাপন্ন হই। এতে স্থানীয়রা মিমাংশা করার জন্য সামাজিক শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন এলাকাবাসী। শর্ত মোতাবেক বিচার পাঞ্চায়েত দফায় দফায় হয় কিন্তু বিচারকদের বিচারের রায় শুনা মাত্রই কাপ্তান গংরা এ রায় প্রত্যাখান করে বৈঠক ছেড়ে চলে যায়। এতে বিচারকদের মধ্যেও কারোই সাহস হয়নাই এর প্রতিবাদ করার! গত ৬/৭ দিন পূর্বে দুপুর বেলা ওই ঘটনা নিয়ে আবারো এলাকাবাসী শালিস বৈঠক বসেন কাপ্তান মিয়ার বাড়িতে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ৪নং ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়া, দীঘলবাক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম হোসেন, এডভোকেট কাজল মিয়া, মানবাধিকার নেতা ও ইউপি সদস্য খসরু মিয়া, ফজল মিয়া সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বেলা ২টার সময় নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খাঁন একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকার বিচারকদের উদ্যোশ করে বলেন, আপনার সবাই চলে যান, আমি এটার মিমাংশা করে দিচ্ছি। এতে গ্রামের সাধারন মানুষ চলে যান। পরে ওসি নিজেই তার সাথে থাকা সার্ভেয়ার দিয়ে ওই টিন সেট ঘরের দক্ষিন দিকের সিমানা গেসে বাড়ির সিমানা নির্ধারন করে দেন। কিন্তু ওসি আসার পর পরই গত ২ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ কাপ্তান ও তার ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে থাকা রড, দ্যা, রামদা, পিকল, সুলপি সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের পুরো সম্পত্তি গ্রাস করার হীনমন মানুষিকতায় বাড়ি-ঘর হামলা চালায়। এতে মান সম্মান ও উজ্জতের ভয়ে আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রয় নেই। এসব সন্ত্রাসী তান্ডবের ঘটনা এলাকায় উপস্থিত নারী, পুরুষ, যুবক. যুবতি সহ সকল শ্রেনী পেশার লোকজন দেখেছেন। এর মধ্যে ২/১জন সাথে সাথে প্রতিবাদ করলে বাঁধা বিপত্তি আসায় ও বড় ধরনের সংর্ঘষ হবে বলে পিছু হাটেন তারা। এ সুযোগে কাপ্তান মিয়া গংরা তাদের ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় দলীলপত্র, কাপড়- ছোপড়, দামী জিনিস, ঘরে টিন, বেড়া যাবতীয় জিনিস পত্র লুটে নিয়ে যায়। এর পর দিন থেকে আজ পর্যন্ত ওই কাপ্তান বাহিনী ক্ষমতার দাপট কাটিয়ে তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ওই বাড়ি রকম জায়গায় ১৫ শতক ভূমির গাছপাালা ও ঘরে ভেঙ্গে পরিস্কার করে পাকা দেওয়াল নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে! এসব দেখার যে কেউ নাই? এলাকার কোন মানুষ কাপ্তান গংদের বিরোদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নবীগঞ্জ থানার ওসির কাছে মনে হয় কাপ্তান কোন অভিযোগ দিয়েছিল। সে অনুপাতে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আমিও সেখানে ছিলাম। তিনি দু’পক্ষের সম্মতিক্রমে সীমানা নির্ধারন করে দিয়ে গেছেন। ঘর ভেঙ্গে লুটপাট ও জোর পূর্বক দখল করার বিষয় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাকে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবগত করেছে। আমি তাদেরকে বলেছি যদি আমাদের দেয়া জায়গা থেকে বেশী নেয় তাহলে কাপ্তানকে আপত্তি দেয়। পরে তারা জানায় ওই মহিলারা নাকি এ রায় মানছে না। এর পর আর কিছু জানিনা। আর আমাকে কেউ কিছু বলে নাই। তবে আমি বিষয়টি দেখছি ভাই।
এ ব্যাপারে কাপ্তান মিয়ার সাথে জায়গা দখলের কথা জিঙ্গাস করা হলে তিনি স্বীকার করে বলেন, জ্বি আমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি জিডি করেছি। এতে মহিলা ৪জন ও পুরুষ ২জনকে আসামী করেছি। থানার ওসি মহোদয় সরেজমিনে এসে দেখে গেছেন। তবে, ভূমি দখল করেছি ঠিক। কিন্তু এই জায়গার এখন আমি নতুন মালিক! ঘর- দরজা ও গাছ পালা কাটার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ঘর, আমার গাছ, তাই আমি কেটেছি। এইসব জায়গা আমার বরং আমি আরো তারারে বলন জায়গা দিয়েছি। বর্তমান যোগ ইন্টারনেটের যোগ, তাই এটা আমি বুঝে শুনেই করেছি। যাহাতে আমার এ বিষয়টা সারা বিশ্বে প্রচার হয়। গাছ কাটার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আমার গাছ তাই আমি কেটে নিয়ে গেছি। তিনি আরো বলেন, হ্যালো বিদ্যা শিক্ষা যত অইন, নারায়ন তার মূল কারণ। ঘর বাড়ি আমার, আরো উত্তর সাইটে অনেক জায়গা রয়ে গেছে।
নবীগঞ্জ থানার এ এস আই জয়ন্ত এর সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাপ্তান মিয়া একটি জিডি করেছে, ওই জিডি আমার কাছে এখনও আসেনি। আসলে আমি সরেজমিনে যাব। এবং বিরোধ মিমাংশা করার চেষ্টা করবো।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত