বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংস্কারের অভাবে বেহাল, দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ



বিশেষ প্রতিনিধি:: কুলাউড়া-ভূকশিমইল-বরমচাল সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে এবং ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় কুলাউড়া-ভূকশিমইল-বরমচাল সড়কের ৮ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ। পাশাপাশি সড়কটির দুরবস্থার কারণে ওই দুই উপজেলার মানুষের কম সময়ে সিলেটে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কুলাউড়া কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলা সদর থেকে ছকাপন বাজার ও ভূকশিমইল বাজার হয়ে বরমচাল ফুলেরতল বাজার পর্যন্ত এ সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এলজিইডির উদ্যোগে সড়কের প্রথম ৮ কিলোমিটার (কুলাউড়া থেকে ছকাপন বাজার পর্যন্ত) জায়গায় সংস্কারকাজ হয়। বরমচালের ফুলেরতল বাজারে এ সড়কটি কুলাউড়া-বরমচাল-ভাটেরা-সিলেট সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে কম সময়ে সিলেট যাওয়া যায়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের ভূকশিমইলের কাজিরগাঁও, কানেহাত, রসুলগঞ্জ বাজার, জাব্দা ও বরমচালের মাধবপুর এলাকায় পিচঢালাই উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মাইক্রোবাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করছে। ভূকশিমইলের কাড়েরা গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ মাহফুজ আহমদ বলেন, কুলাউড়া-বরমচাল-ভাটেরা-সিলেট সড়ক দিয়ে সিলেটে যেতে এক ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। কিন্তু কুলাউড়া-ভূকশিমইল-বরমচাল সড়ক দিয়ে যেতে কম সময় লাগে। এ কারণে সড়কটি একসময় বেশ ব্যস্ত ছিল। কুলাউড়ার কাদিপুর, ভূকশিমইল ও বরমচাল ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করে। অনেক দিন ধরে সড়কটা ভাঙাচোরা।
এছাড়া বছরের মাঝামাঝি সময়ে বন্যায় সড়কের অনেক স্থান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু মেরামত করা হচ্ছে না। ফলে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কুলাউড়া-ভূকশিমইল সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশার চালক জায়েদ আহমদ বললেন, ‘রাইতে (রাতে) এই রাস্তা দিয়া গাড়ি চালানি রিস্ক (ঝুঁকি) বেশি। শীত আসছে। সন্ধ্যার পরে কুয়াশা নামে। তখন গাড়ি গাতে (গর্তে) পড়ি যায়। গাড়ির ক্ষতি হয়। প্যাসেঞ্জারেরও (যাত্রী) কষ্ট হয়। সাবধানে চালাইতে হয়।’ ভূকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, তিনি একাধিকবার উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে এলজিইডির কর্মকর্তাদের কাছে এটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার জায়গা সংস্কারের ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংকের গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বেশ আগে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত