বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে এলাকাবাসী ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে সংঘর্ষ , পুলিশ সহ আহত ১০



গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :গোলাপগঞ্জের পৌরশহরে জুমআর নামাজের পর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় পুলিশ সহ দুই পক্ষের প্রায় ১০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এস আই শংকর চন্দ্র দাস, টিকরবাড়ী গ্রামের লোকমান আহমদ খান সহ ৮ জন সিএনজি অটোরিক্সা চালক আহত হয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে,পৌরশহরের চৌমুহনী মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন একটি বিপনী বিতানের সামনে সিএনজি অটোরিক্সা পার্ক করে রাখাকে কেন্দ্র করে গাড়ী চালক ও বিপনী বিতানের কর্মচারীর মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ও স্থানীয় টিকরবাড়ী এলাকাবাসী বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষ বৃষ্টির মতো ইট -পাথর নিক্ষেপ করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চালায়। এসময় ২৫টি সিএনজি অটোরিক্সা ভাংচুর সহ স্থানীয় একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের কাচেঁর গ্লাস ভাংচুর করা হয়। দুই ঘন্টা ব্যাপী সৃষ্ট সংঘর্ষে সিলেট জকিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার ব্যাপী দীর্ঘ যানজট তৈরী হয়। খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মীর নাসেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। বিকাল ৩টায় ঘটনাস্থলে সিলেট শহর থেকে অর্ধশাতাধীক দাঙ্গা পুলিশ আসে। তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না আসায় সাড়ে ৩টায় সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. মোহাম্মদ আক্তারুজ্জ্বামান বসুনিয়া ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর প্রায় ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষকে ছত্র ভঙ্গ করে দেয় পুলিশ । উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিকাল ৫টায় এ প্রতিবেদককে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সূত্রপাত যাকে নিয়ে সেই সিএনজি চালক পৌরসভার রণকেলী গ্রামের তোফায়েল আহমদ জানান, ‘আমি ঐ দোকানের সামনে গাড়ী রেখে তাদেরই দোকানে গিয়েছিলাম কিছু কেনার জন্য কিন্তু দোকানের কর্মচারী আমাকে গাড়ী সরানোর জন্য গালিগালাজ শুরু করে এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ছুরি নিয়ে আমার উপর হামলে পড়লে আমার বাম কানের নিকট জখম হয় এরপর বিষয়টি জটিল আকার ধারন করে।’ হামলা শুরু হলে বিপনি বিতানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি তবে দোকানটির মালিক স্থানীয় টিকরবাড়ী গ্রামের সামছুল ইসলাম বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি থমথমে ও আবারো সংঘর্ষের আশংকা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপরদিকে ক্ষুদ্ধ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকরা একটি বৈঠকে বসেছেন বলে জানাগেছে। বৈঠক থেকে ২দিন হরতালের ঘোষণা আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

.

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত