মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের আটকের দাবী



সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:: সুনামগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জঙ্গীহামলা ভাংচুর ও লুটতরাজের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা এফআইআরের দাবী জানিয়েছে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখা। তারা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের কান্দি ছমেদনগর গ্রামের মৃত রুশমত আলীর পুত্র আব্দুল করিম, আব্দুল করিম এর পুত্র আলী আহমদ ওরফে জুলহাস,আমিন মিয়া এর পুত্র বুলবুল, তাহের মিয়ার পুত্র হারুন, ছমেদনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক মুকিত, মৃত মোবারক হোসেন আশরাফ আলী, মৃত আব্দুর রাজ্জাক রফিক মিয়া, আশরাফ আলী জুয়েল,ওয়াজিদ মিয়ার পুত্র আতিক,উপুড় বনগাও আকবর আলীর পুত্র মাওলানা দেলোয়ার হোসেন,মোল্লাপাড়া ছমেদনগর গ্রামের মৃত আব্দুল শহীদ খোকন মিয়া খোকা,বৃন্দাবননগর-ছফেরগাও গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহ আশকর আলীসহ জড়িত সকল সন্ত্রাসীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জালাল উদ্দিন জাহান,সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক বাউল আল-হেলাল,সহ-সভাপতি কে.বি মুর্শেদ জাহাঙ্গীর,এডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল, দেওয়ান জিসান এনায়েত রেজা,সাধারন সম্পাদক ছাদিয়া বখত সুরভি, যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম শায়েস্তা,প্রশান্ত শেখর দাস,সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ আহমদ, অর্থ সম্পাদক আওলাদ হোসেন মিসবাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নেছার আহমদ শফিক ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আমেনা বেগম এ দাবী জানান।
তারা বলেন,গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের বনগাও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন ছমেদনগর গ্রামের বাউল শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুমের বাড়ীতে পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উক্ত সন্ত্রাসীরা “হিলফুল ফুজুল সংঘ” নামে একটি সংগঠণের নাম পরিচয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে একজোট হয়ে বাউল শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুম এর বাড়ীর সামনের জমিতে পরিচালিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ,মাইক,চেয়ার টেবিল ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়। মঞ্চের উপরে রাখা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমসহ পঞ্চরতœ বাউল শিল্পীর ছবিসমেত ডিজিটাল ব্যানার টেনে ছিড়ে জমিতে ফেলে পা দ্বারা মাড়ায় এবং সভাস্থলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। জঙ্গী মনোভাবাপন্ন সন্ত্রাসীদের এহেন বেআইনী কাজে বাধা দিলে তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সমুজ আলীকে মারপিঠ করত: তার পকেট থেকে নগদ টাকা,অতিথি শিল্পী বাউল আমজাদ পাশার বেহালা, শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুম এর হারমোনিয়াম এবং একজন যন্ত্রশিল্পীর ঢোল জোরপূর্বক ছিনতাই করে নেয়।
পরদিন শুক্রবার সন্ত্রাসীদের এহেন ঘটনার প্রতিবাদ করায় এরা অব: সেনাসদস্য আব্দুল মালেক এর উপরও হামলা চালায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করলে ১৯ ফেব্রুয়ারী রবিবার বিকেল ৩টায় সরজমিনে উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের ছমেদনগর গ্রামের ঘটনাস্থলে গিয়ে মামলার প্রথম দফা তদন্ত সম্পন্ন করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এস.আই মোঃ নূর উদ্দিন। তদন্তকালে আসামী পক্ষের লোকেরা বেআইনী জনতাবদ্ধে মিলিত হয়ে পুলিশের সামনে বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে এসআই নূর উদ্দিন নিরীহ বাদীপক্ষ বিশেষ করে বাউল শিল্পী আব্দুল কাইয়্যুমের উপর পূণর্বার হামলা ও এলাকায় শান্তিভঙ্গ না করার জন্য তাদেরকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন। এদিকে পুলিশের তদন্তের পর পরই রোববার বাদ আছর বনগাও বাজারে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র ও স্থানীয় গোত্রীয় লোকদেরকে নিয়ে বেআইনী সমাবেশ করে মামলার বাদী ও সাক্ষীদেরকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়েছে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী জুলহাস ও তার পিতা আব্দুল করিম।
বিবৃতিদাতারা বলেন, সন্ত্রাসী আব্দুল করিম ১৯৮৯ সালে কানলার হাওরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাই ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে। চাহিতো ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসী আব্দুল করিম ও তার পুত্র জুলহাস একই গ্রামের হাজী আব্দুল মোতালিবের পুত্র আব্দুল শহীদের জায়গা জোড়পূর্বক দখল করে নেয়। জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সিরাজুল ইসলামের পুত্র নুরুল ইসলামের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয় ৮০ হাজার টাকা। বিনাদোষে সামসু মিয়ার মেয়ে নববধূ আছিয়া বেগমকে মারপিঠ করে জুলহাস করিম বাহিনী। নিজ গ্রামের মাইন উদ্দিন মিয়ার স্ত্রীকেও মারপিঠ করে আব্দুল করিম ও জুলহাস। করিমের ভাতিজা আব্দুল আলী মদ খেয়ে মাতলামীর পাশাপাশি নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অনেক ঘটনার নেপথ্য নায়ক। মদ বিক্রয়কালে ডিবি পুলিশের হাতে আব্দুল আলী আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে। হিলফুল ফুজুল সংঘের নামে জঙ্গী জুলহাস ছমেদনগর গ্রামের বাহাউদ্দিন ভান্ডারীর কাছ থেকে গানের আসরে বাধা না দেয়ার দোহাই দিয়ে হাতিয়ে নেয় ১০ হাজার টাকা চাঁদা।
ছমেদনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের বাড়ীতে অনুষ্ঠিত গানের আসরে বাধা না দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উক্ত সংগঠনের নামে জুলহাস ও তার পিতা চাঁদা বাবত হাতিয়ে নেয় ২০ হাজার টাকা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম ও টেবিল কাস্টিং এ বাধা দিলে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা চালায় জঙ্গী জুলহাস ও তার পিতা। আরো জানা যায়, গত এপ্রিল ২০১৬ইং সনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণাক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে চশমা প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় সন্ত্রাসী আব্দুল করিম। পরে তাকে দলের সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিস্কারের জন্য জেলা ও উপজেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নৌকার প্রার্থী।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে আব্দুল করিমের মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার করার দু:সাহস কারো নেই। অযোগ্য প্রার্থীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ায় দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনেই আমি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। নৌকার পরাজয়ে প্রমান হয়েছে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে নেতারা বাণিজ্য করেছেন। রোববারের বেআইনী সমাবেশ এর ব্যাপারে তিনি বলেন,আমরা একটি প্রতিবাদ সভা করেছি। কিন্তু কেন তিনি তার ছেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদিনীকে তাদের বাড়ীতে গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করার হুমকী দিয়েছেন জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। জানতে চাইলে রঙ্গারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারন সম্পাদক মমিন মিয়া বলেন,দলের এবং দলীয় প্রধানের সিদ্বান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সে আলটিমেটলীই বহিস্কার হয়ে যায়। তাকে আর ঘোষনা করে বহিস্কারের প্রয়োজন হয়না।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম বলেন, ইউনিয়ন কমিটির প্রস্তাবনা ও নৌকার প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আব্দুল করিমকে আমি নিজে দল থেকে বহিস্কার করেছি। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বলেন,আব্দুল করিম ও তার পুত্র জুলহাস জন্মগত সন্ত্রাসী। দলীয় প্রধান জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত দলীয় প্রার্থী ও নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে প্রার্থী সেজে আমাদের দলের নিশ্চিত ভরাডুবী করে ধানের শীষের বিজয়ে ভূমিকা পালন করেছে তাই আব্দুল করিম আর আওয়ামীলীগের কেউনা। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁকি দিয়ে তার মতো জগন্য একজন বিদ্রোহীকে নিয়ে আওয়ামীলীগ করার প্রশ্নই আসেনা।
এদিকে হিলফুল ফুজুল সংঘের নামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ সুনামগঞ্জ হাছননগর খাদিজাতুল ক্বোবরা মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি হযরত মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন,নবী করিম (সঃ) নবুওতি লাভের আগে ২৫ বছরের বয়সকালে হিলফুল ফুজুল সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে নবীজী মানুষের অধিকার রক্ষা,মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছিলেন। নবীজী নিজ ধর্মতো দূরের কথা কোন বিধর্মী বা মুর্তি পূজারীদের অনুষ্ঠানে হামলা করেছেন বা করিয়েছেন এ ধরনের নজীর পবিত্র ধর্ম ইসলামে নেই। তাই শান্তির ধর্ম ইসলামের নাম নিয়ে কেউ যদি অন্যের আয়োজনের ক্ষতিসাধন করে এর জন্য সে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে হিলফুল ফুজুল সংঘ নামক সংগঠনের ব্যানারে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য দেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহবাণ জানিয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত