বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন: ফেঞ্চুগঞ্জে ‘কুটি বাহিনী’র নির্যাতনে অতিষ্ট কণ্ঠশিল্পীর পরিবার



প্রভাবশালী ‘কুটি বাহিনী’র নির্যাতন ও মামলায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ফেঞ্চুগঞ্জের একটি কণ্ঠশিল্পীর পরিবার। সোমবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কায়স্থগ্রামের শফিকুর রহমানের পুত্র ও কণ্ঠশিল্পী জয়নুল ইসলামের ভাই মো. শাহীন মিয়া এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একই গ্রামের মৃত আকমল আলীর পুত্র এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী নূরুল হুদা কুটি মিয়ার অত্যাচার, নির্যাতন এবং একের পর এক মিথ্যা মামলায় তার পরিবার চরম হুমকির সম্মুখিন। তার প্রবাসী বড় ভাই কন্ঠশিল্পী জয়নুল ইসলাম আজ কুটির সাজানো নাটকের শিকার হয়ে জেলহাজতে। এছাড়া প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীদের হুমকিতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন অভিযোগ থাকা স্বত্ত্বেও পুলিশ কুটিকে গ্রেফতার করছে না। কিছুদিন পূর্বে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। এলাকার লোকজনও তার ভয়ে সব সময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন।
তিনি বলেন, তার মৌরসি সম্পত্তি কায়স্থ গ্রাম মৌজার ৩৭৭৬ ও ৩৭৮৩ নং দাগে প্রায় ৩৮ শতক ভূমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে দুস্কৃতিকারী এ চক্র। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তার পিতা শফিকুর রহমান সৌদিআরব থেকে দেশে আসলে কুটি তার পিতাকে হুমকি দিয়ে বলে ‘বাঁচতে চাইলে জমিজামার মায়া ভুলে বাংলাদেশ ছেড়ে যা। নয়তো তোর লাশ কোথায় কোন সময় পড়বে কেউ বলতে পারবে না।’ কুটির হুমকিতে তার পিতা নিরুপায় হয়ে ও প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান। শাহিন বলেন, শুধু তার পিতাকে নয় তাকে এবং তার ভাই জয়নুল ইসলামকেও মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে আসছে কুটি মিয়া। এর প্রেক্ষিতে গত ৩ জানুয়ারি সিলেটের পুলিশ সুপার ও ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। পুলিশ সুপার অভিযোগটি তদন্তের জন্য ফেঞ্চুগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিলেও অদ্যবধি ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ কোনো রিপোর্ট দাখিল করেনি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি তার ভাই জয়নুল ইসলাম সৌদিআরব থেকে দেশে আসেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জরুরি প্রয়োজনে মাইজগাঁও বাজারে গেলে সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে কুটির অন্যতম সহযোগী গোয়ালাঘাট গ্রামের সোম মিয়ার পুত্র কয়েছসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন মিলে তার ভাইকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি ঘরে আটকে রেখে প্রায় ৪ ঘন্টা যাবত নির্যাতন চালায়। এ সময় তার ভাইয়ের ব্যবহৃত আইফোন-৬ মোবাইল সেট (নং ০১৭০৩-১৪৭০০১), ৩,৫০০ রিয়ালসহ মানিব্যাগ, এবং দুইটি পেনড্রাইভ, হাতের ঘড়ি ও গলার চেইন নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সুকৌশলে নাটক সাজিয়ে তার ভাইকে সালিশ বৈঠকের কথা বলে ওই ঘর থেকে বের করে মাইঝগাঁও রেলস্টেশনে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগে থেকেই পুলিশ উপস্থিত ছিল। তার ভাইকে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার এসআই অমৃত কুমার দেব কৌশলে গাঁজা ও ইয়াবা পকেটে ঢুকিয়ে দেন। শাহীন বলেন, কুটি শুধু তার পরিবার নয় এলাকার আরো অনেক নিরীহ মানুষকে মামলা ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন। এমনকি কুটি তার নিজের পরিবারের সদস্যদেরকেও হয়রানি করে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী নূরুল হুদা কুটি গংদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান শাহীন। এসময় সিলেটের পুলিশ সুপার ও ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন হেলাল আহমদ হেলু, সাবু মিয়া, শামীম, আতিক, আবুল মিয়া, ওয়াদিস মিয়া, সাইদুর রহমান, সাদিক্জ্জুামান, প্রবাসী নূরুল হক, এরশাদ আহমদ প্রমূখ। – বিজ্ঞপ্তি

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত