শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে আসলে পুনর্বাসন: প্রধানমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক:: বিপথগামী সদস্যরা জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরে আসলে তাদের আইনী সহায়তাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের এক প্রশ্নের জবাবে বুধবার এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বুধবার সংসদের প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরসহ সব প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
এসময় শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সুষম উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ হুমকিস্বরূপ। এ দেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কিছু সফল অভিযানে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গ্রেপ্তার ও নিহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানের ফলে বর্তমানে জঙ্গি তৎপরতা বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। জঙ্গি দমনে এ সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও সক্ষম হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার জন্য একটি যুগোপযোগী স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রডাক্ট (এসওপি) তৈরি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জঙ্গি দমনে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জঙ্গিবাদবিরোধী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জঙ্গি সদস্য ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের মোটিভেশন ও সহযোগিতার মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন সন্দেহভাজন নিখোঁজ ব্যক্তি ও পলাতক জঙ্গিদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। অনেকে তাদের গৃহে ফিরে এসেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনলাইনভিত্তিক প্রচারণার দিকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হবে। যাতে জনগণের মধ্যে জঙ্গিবাদী মতাদর্শের র‌্যাডিক্যালাইজেশন না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত