বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম লক্ষাধিক কৃষক পরিবারে উৎকন্ঠা



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম গাফিলতিতে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ১৩ টি হাওরে বোরো ফসল রক্ষা বেড়ি বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে লক্ষাধিক কৃষক পরিবার শঙ্কায় রয়েছেন। বিক্ষুব্ধ কৃষকরা দ্রুত বাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলে টনক নড়ছে না কর্তপক্ষের।
গত ২৮ ফেব্রয়ারি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অধিকাংশ বাঁধে এক টুকড়ি মাটি না দিয়ে লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পাউবো কর্মকর্তারা। বাঁধের কারণে বারবার ফসল ডুবির ঘটনা ঘটলেও তাদের টনক নড়েনি। ফলে চলতি মওসুমে বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে কৃষকরা রয়েছেন হতাশায়। জামালগঞ্জ হালির হাওরে ২৭ টি পাকনার হাওরে ছোট-বড় ১৬ টি, সানোয়া ডাকুয়া হাওরের ৬ টি ও বেড়ি বাঁধ ও ক্লোজারের মধ্যে ২০ শতাংশ কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুসছেন কৃষকরা।
কৃষকদের মতামতের তুয়াক্কা না করে হাওরে জমি নেই, এমন লোকদের নিয়ে উপজেলা ফসল রক্ষা কমিটি গঠন করায় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরেজমিনে হাওরের বিভিন্ন বাঁধে গেলে হাওরের বাঁধ নির্মাণে তেমন কোন কাজ চোখে পড়েনি। নাম মাত্রে কয়েকটি বাঁধে কাজ চললেও তা সন্তোষজনক নয় বলে কৃষকদের দাবি। হালির হাওরের বদরপুর, ঘনিয়ার কাড়া, রাঙ্গিয়া, হাওরিয়া আলীপুরের বাঁধগুলো সব হাওরগুলো অরক্ষিত। ঘনিয়ার বিল ও রাঙ্গিয়ার বাঁধে গেল বছরের পুরাতন বাঁধের উপরে নামে মাত্র ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পরিমাণে উঁচু করে মাটি ফেলা হয়েছে। যা একটু বৃষ্টির পানিতে ধসে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) দায়িত্বশীল লোকজনও বাঁধের কাজের ব্যাপারে আন্তরিক নয় বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। ঠিকাদার ও সাব ঠিকাদারের অনুগতরা স্থানীয় কৃষকদের সাথে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে দুর্ব্যবহার করার খবরও পাওয়া গেছে। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
হাওরিয়া আলীপুরের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানটিতেও এক টুকরি মাটিও পড়েনি। গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ক্লোজারে এখনো কোন মাটি ভরাট না করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন ওই এলাকার কৃষকরা। বাঁধটি এখনো সম্পূর্ণভাবে অরক্ষিত আছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেই পানি হাওরে প্রবেশ করে সোনালী ফসল তলিয়ে যাবে।
পাউবো ও ঠিকাদারদের সূত্রে জানা গেছে, হালির হাওরের ঠিকাদারী কাজের বদরপুর থেকে ঘনিয়ার কাড়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কাজের জন্য বরাদ্দ ১২ লক্ষ টাকা, হাওরিয়া আলীপুর থেকে ঘনিয়ার বিল পর্যন্ত বরাদ্দ ৩৮ লক্ষ টাকা, পাউবোর হালির হাওরের ১২৬ পিআইসি বেহেলীর ইউপি সদস্য আব্দুল হাসিম রাঙ্গিয়া ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ পান ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। উল্লেখিত প্রকল্প গুলোর নামে মাত্র মেরামত কাজ হলেও অধিকাংশ জায়গায় কাজ শেষ হয়নি। দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে হাওরের বাঁধের উপর মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা। শনিবার হালি হাওরের হাওরিয়া আলীপুরের বাঁধ এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে এলাকার শত শত কৃষক অংশ নেন।
মানববন্ধনে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাওরের বাঁধের কাজ এখনো অনেক জায়গায় শুরুই হয়নি। কিছু কিছু জাগয়ায় মাটির প্রলেপ দিয়ে লোক দেখানো বাঁধ দেয়া হয়েছে। অসীম চেয়ারম্যানরে একদিনও হাওরের বাঁধের কাজে দেখা যায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা খালি আইয়া মেম্বার আর চেয়ারম্যানরারে খোঁজে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আক্তার আলী, খলিলুর রহমান, আয়না মিয়া,আব্দুল আউয়াল, অমৃতা বিবি, হাজেরা বেগম, লালজান বিবি, আ. রইছ, ইয়াছিন মিয়া, সাইদুল হক, আমিনুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, হাইব্রিড উচ্চ ফলনশীল জাতের ৫৯২৫ মে. টন, উফসী জাতীয় ফসল ৯১৪১ মে. টন, স্থানীয় জাতের ফসল ৮৮১ মে. টন সহ অন্যান্য ফসল প্রায় ১ লাখ মে. টন। যার বাজার মুল্য প্রায় ৩ শত কোটি টাকা।
হালির হাওরের পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী (এসও) খন্দকার আলী রেজা বলেন. আমি মাঠে আছি, আমার কাজ চলছে। তাহলে সময় মত কেন কাজ সম্পন্ন করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যান।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস বলেন, হালির হাওরের বাঁধ ও ক্লোজারের কাজ এখনো চলমান। আমি ঠিকাদার ও পিআইসিদের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য চাপে রেখেছি। যদি বাঁধে নিয়মমত মাটি না ফেলা হয় তাহলে বিল কর্তন করে দেয়া হবে।###

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত