সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার থাকলেও উপস্থিতি নেই! ঔধষ থাকলে লোক নেই! রোগীদের চরম ভোগান্তির শেষ নেই! ডাক্তার রাসেদা আক্তারের বিরোদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ



বুলবুল আহমদ, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি::নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসারের বিরোদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি নিজের ইচ্ছা মতো মন চাইলে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে রোগীদের চরম ভোগান্তি ও দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম জনবহুল ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার। এখানে রয়েছে, এশিয়ার বৃহত্তম বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র, রয়েছে সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র একটি গার্মেস শিল্প, বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্ট, কয়েকটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, সরকারী- বেসরকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে আউশকান্দি হীরাগঞ্জ মাদ্রাসা পয়েন্টস্থ ৫ তলা ও ৭ তলা বিশিষ্ট ২টি প্রাইভেট হাসপাতাল। এখানে প্রতি শুক্রবার নবীগঞ্জ উপজেলা সহ আউশকান্দি আশপাশ এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্ণাঢ্য ব্যাক্তিদের স্ত্রী, বোন, মা সহ আত্মীয় স্বজনরা ডাক্তারের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে ভীড় জমাতে দেখা যায়।
এখানে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে কেউ কেন নজর দিচ্ছেন না? ভিতরে কোন নাম নেই। মুছে গেছে, পুরাতন হয়ে গেছে। হাসপাতালের রাস্তা সংলগ্ন একটি ড্রেইনের র্দূগন্ধে দূর দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা আরো বেশী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে রোগীরা অভিযোগ করেন। ঐ হাসপাতালটা যেন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের কেউ না কেউ প্রতিদিনই আসেন কিন্তু তাদের নজরে কি কোন দিন পড়ে না। সবাই নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত।এ ব্যাপারে স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ নিয়ে বলেন, সরকারী হাসতাল হচ্ছে মধ্যবৃত্ত ও নিম্মবৃত্ত লোকজনের। তাই জনপ্রতিনিধিরা এসবের দিকে নজর দিচ্ছেনা, মধ্য বৃত্ত ও নিম্মবৃত্ত লোকজনের শুধু মাত্র ভোটের সময়ই তাদের প্রয়োজন হয়। ভোট শেষে মধ্য বৃত্ত ও নিম্মবৃত্ত আয়ের লোকজনের আর কোন খোঁজ খবর রাখেন নি তারা। এসব বিষয় নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা কেন সাধারন মানুষের ন্যায্য অধিকারের বিষয়ে নজর দিচ্ছেন না এমন প্রশ্ন সচেতন সাধারন লোকজনের। আউশকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ঔষধের জন্য রোগীরা গেলে ডাক্তার না পেয়ে অপেক্ষায় সারিবন্ধ ভাবে বসে ও দাড়িয়ে বাড়ি ফেরতে দেখা যায়।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আউশকান্দি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দে গিয়ে দেখা ও শুনা যায় এমন দৃশ্য। তবে, দায়িত্বরত মেডিক্যাল অফিসারকে পাওয়া যায়নি! তিনি না কি একটু আগে চলে গেছেন। রোগীদের দেখা যায় প্রচন্ড ভীড় কিন্তু মেডিক্যাল অফিসার নেই,স্বাস্থ্য সেবা চলছে উপ- সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার হাবিবুর রহমান ধারা। এ রকমই চলছে বছরের পর বছর ধরে। এসবের ফলে যেন হাসপাতালটি নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে উপ- সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার হাবিবুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, যতটুকু সম্ভব্য আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। তবে, অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়! প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২শত নারী-পুরুষ ও শিশু- কিশোরকে চিকিৎসা সেবা দেয়া আমার পক্ষে খুব কষ্ঠকর হয়ে পড়ছে। এই কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার সর্ম্পকে জানাতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য করতে রাজি হন নি।
খোজঁ নিয়ে আরো জানাযায়, এলাকাবাসীর দাবী প্রেক্ষিতে সরকারের তরফ থেকে ডাক্তার রাসেদা আক্তারকে নিয়োগ দেয়া হয় আউশকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে। তিনি গত ২০১৬ইংরেজীর ১মে যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই তিনি সপ্তাহে ১দিনও আসেন নি হাসপাতালে। এমন কি যোগদানের ১০মাস ৫দিন হলেও হাতে গুনা কয়েকদিন অফিস করলেও সরকারী নিয়ম কানুনের কোন নিয়মের তোয়াক্কা করেন নি তিনি। গত ১১ ফেব্র“য়ারী ২০১৭ইংরেজীতে থেকে চলতি মাসের ৫মার্চ পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে আসেননি। গতকাল ৬মার্চ সোমবার তিনি আসেন। কিন্তু সাড়ে ১২টার পূর্বে চলে যান। আগত অমিরুন বেগম (৪৫) জানান, ডাক্তারনি ইন্টারনেট নিয়া ব্যস্ত, আমারে খইন ডাক্তার আছে ওকানে চলে যাও। জয়রুন বেগম, রুজিনা আক্তার, করিমা বিবি, জয় বিবি, ইসলাম, নুর উদ্দিন, আলী আহমদ বলেন, ডাক্তার থাকলেও ঔষধ মিলে না। ডাক্তারনী আছে বলে আমরা মহিলারা আসি কিন্তু উনি মোবাইল ফোনের দিকে সব সময় চেয়ে থেকে আমাদের বলেন পুরুষ ডাক্তারের কাছে যেতে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত