মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ছাতকে জোড়া খুনের দু’টি মামলায় সিংহভাগ আসামী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী



ছাতক প্রতিনিধি:: ছাতকে সুন্নী-কওমী অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে জোড়া খুনের ঘটনায় দায়েরী পাল্টা-পাল্টি মামলায় সিংহভাগ আসামী করা হয়েছে আওয়ামীলীগ-বিএনপি, জামাতসহ এসব দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের। মামলায় সুন্নী-কওমী অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কাউকে আসামী করা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টিই উদুর পিন্ডী বুদুর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার মতোই মনে করছেন সচেতন মহল।
পাল্টাপাল্টি মামলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আসামী করায় শহর জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকে। আবার অনেকেই বলছেন ঘটনার সাথে উভয় মামলার আসামীদের বড়ই অমিল রয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী জাউয়াবাজারে ফুলতলী অনুসারীদের টানানো একটি ব্যানার কওমী অনুসারীরা নামিয়ে ফেলার ঘটনায় ছাতক হাইস্কুল মাঠে খাদিমুল ইসলাম আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী কওমীদের ওয়াজ মাহফিলে বাধা হয়ে দাঁড়ান সুন্নী অনুসারীরা। এ ঘটনার জের ধরে ২৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রক্তক্ষীয় তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সুন্নী-কওমী অনুসারীরা। সংঘর্ষে দু’ব্যক্তি নিহত ও পুলিশ, পথচারী, শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত দেড় শতাধিক লোক আহত হয়। দফায়-দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় যখন গোটা শহর পরিনত হয় রণক্ষেত্রে, তখন সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়েও নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন আব্দুল বাছিত বাবুল ও রুবেল মিয়া। সংঘর্ষ চলাকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাড়ি ভাংচুর-লুপাট, ফুটপাতের দোকান তছনছ ও মালামাল লুটসহ শহরে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয়।
আর এ ঘটনার মামলায় উপর্যুপরী মধ্যস্থতাকারী ও অনুপস্থিত অনেককেই করা হয়েছে পাল্ট-পাল্টি হত্যা মামলায় আসামী। মামলার বিষয়টি মরার উপর খাড়ার ঘা’ এর সমতুল্য বলে ভুক্তভোগী অনেকেই মন্তব্য করেছেন। সুন্নী পক্ষের নিহত আব্দুল বাছিত বাবুলের বড় ভাই হাজী কবির মিয়া বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৫-২০জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা(নং-০২) দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন আ.লীগের দুলু মিয়া, হাজী জামিল আহমদ, ফরিছ মিয়া মেম্বার, আক্তার মিয়া, দিলোয়ার হোসেন, বিএনপির আনোয়ার পাশা, খেলোয়াড় টুটুল, ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাত নেতা এড. সুফী আলম সুহেলসহ কামাল মিয়া, আক্তার মিয়া-২ ও আব্দুলাহ। কওমী পক্ষের নিহত রুবেল মিয়ার ভাই আহমদ আলী বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা হত্যা মামলা(নং-০৯) দায়ের করেন। মামলায় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেনকে প্রধান আসামী করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামীরা হল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াদ চৌধুরী, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক সাদমান মাহমুদ সানি, আ.লীগের আবুল হায়াত, ছাব্বির আহমদ, স্বপন চৌধুরী, মাহবুব, আশরাফ, সানি, শ্রমিকলীগ নেতা সুমন খান, ইমন খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক হিফজুল বারী শিমুল, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম পাবেল, যুবদল নেতা খোকন, ছাত্রদল নেতা রাশেদ, কানন, কার্জন. রাহেল, বাগবাড়ি গ্রামের সাহেদ, আব্দুল মমিন, সহিদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফারুক আহমদ এব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, ইসলামিক মতাদর্শের দু’টি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দু’টি হত্যাকান্ডের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্ত এ ঘটনায় দায়েরী হত্যা মামলায় বিএনপি-জামাতসহ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আসামী করা হয়েছে। সবকিছুতে রাজনীতি সম্পৃক্ত করা উচিত নয়।
তিনি এর নিন্দা জানিয়ে মামলা থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাম প্রত্যাহারের দাবী জানান। কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য জেলা আ.লীগ নেতা শামীন আহমদ চৌধূরী জানান, পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিষয়টির আপোষ প্রক্রিয়া চলছে। মামলার আসামী বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে শীঘ্রই সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ছাতক পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জসিম উদ্দিন সুমেন টানা দু’বারের নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর। জনপ্রিয় কাউন্সিলর সুমেনের নাম প্রত্যাহারের দাবী জানান তিনি।
ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন-অর রশীদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাতকে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা নজীরবিহীন। অনাকাংখিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত নয়, এমন কোন ব্যক্তিকে আসামী করা সঠিক নয় মন্তব্য করে বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি কামনা করেছেন তিনি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত