শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে কালীছড়া স্লুইসগেইট অসম্পূর্ণ : চাষাবাদ করা যাচ্ছে না ৩শ একর জমিতে



মৌলভীবাজার সংবাদদাতা ::পনেরো বছর ধরে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌলভীবাজার সদরের একটি স্লুইসগেইট (জলকপাট)। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অবহেলায় ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও কৃষকদের কাজে আসছে না এটি। এতে শুষ্ক মৌসুমে ৩শ একর জমিতে ঠিকমতো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।
মৌলভীবাজার সদরের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত গোপলানদীর সাথে সংযোগ স্থাপনকারী কাগাবলা ইউনিয়নের বুরুতলা কালীছড়া খালে ২০০২ সালের মার্চ মাসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে উত্তর-পূর্ব ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প একটি স্লইসগেইট নির্মাণকাজ শুরু করে। ২২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ৩শ একর জমি সেচের আওতায় আনতে কার্যক্রম শুরু হলেও ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে কৃষকরা চাষাবাদের যে স্বপ্ন দেখছিলেন তা ভঙ্গ হয়ে যায়। এর ফলে শুকনো মৌসুমে ৩শ একরের প্রায় ২শ একর জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।
এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, স্লুইসগেইটের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে এলেও শুধু কপাট না লাগানোয় এটি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল, খালের পানি জলকপাটের মাধ্যমে আটকে রেখে শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া। বর্তমানে নিকটবর্তী গোপলা নদী থেকে পাম্প দিয়ে পানি সেচে কিছু জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। তাতে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫শ টাকা খরচ হয়। স্লুইসগেইটের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত এ টাকা খরচ করতে হতো না। এলাকার কৃষকরা আদৌ এ সেচ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
বুরুতলা এলাকার কৃষক আব্দুল মিয়া জানান, এই প্রকল্পটি কৃষকদের লাভের জন্য করা হলেও কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় তারা সুফল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
কাগাবালা ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ূন কবীর জানান, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনে একাধিকবার স্লুইচগেইটের কাজ সম্পন্ন করার ব্যাপারে আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. শাহজাহান সরেজমিন পরিদর্শন করে এ সেচ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করে কৃষকদের স্বপ্ন পূরণের আশ্বাস প্রদান করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত