বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বড়লেখা পৌরসভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকৌশলী-ঠিকাদারের গড়িমসি



জালাল আহমদ:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলীর উদাসীনতা আর ঠিকাদারদের গাফিলতি, চরম উদাসীনতা আর গড়িমসি করার কারণে অর্ধকোটি টাকার ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও শুরু হয়নি উন্নয়ন কাজ। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এসব প্রকল্পের কাজ সমাপ্তের সর্বশেষ তারিখ অতিক্রম হয় গত ০২ মার্চ। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) গুরুত্বপূর্ণ এসব কাজ বাস্তবায়িত না হওয়ায় পৌরবাসী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও উন্নয়ন কাজের লে-আউট ও ইস্টমিট না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে।
নির্ধারিত সময় অতিক্রান্তের পরও বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে-বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজারের স্টেশন রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন; বাঁশতলা সিএন্ডবি হতে পচাই মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সিসিকরণ; হাটবন্দ কটির বাসা হতে নাজমার বাসা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ; ফকিরশাহের মোকাম রাস্তা সিসি দ্বারা উন্নয়ন; মুড়িরগুল আব্দুল মুতলিব; পানিধার অরিরাম করের বাড়ির সামনের রাস্তা সিসিকরণ ও ৩টি স্থানে কালভার্ট নির্মাণ; মহুবন্দ আজিমগঞ্জি বাসা হতে মৌলানা আব্দুল মুতলিবের বাসা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ; আহমদপুর রফিক হাজী এবং এডিসি হারুনের বাড়ির সামনের রাস্তা সিসিকরণ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের (দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং-০৫) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের ১১টি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহবান করা হয় ২০১৬ সালের ০৯ জুন। প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নির্বাচনের পর নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ২টি উন্নয়ন কাজ কোনোমতে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম উদাসীনতা আর গাফিলতিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার অন্য ৯টি প্রকল্প আজও আলোর মুখ দেখেনি। গুরুত্বপূর্ণ এ কাজগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় পৌরবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) অনুযায়ী, ঠিকাদারদের কাজ শুরুর কথা চলতি বছরের ০২ জানুয়ারি এবং সমাপ্তের সর্বশেষ তারিখ ০২ মার্চ। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার গ্রহণের পর উক্ত টেন্ডারের বৈধতার মেয়াদ ১২০ দিন। কিন্তু ৯ মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ সম্পন্ন দূরের কথা, কাজ এখনও শুরুই করেনি। সূত্র আরও জানায়, এই সকল টেন্ডারে ঠিকাদার নন এমন ব্যক্তিরা অন্যের লাইসেন্স নিয়ে অংশগ্রহণ করে কাজগুলো পেয়ে থাকেন। এসব কাজ প্রকৃত ঠিকাদারের নামে নেয়া হলেও তারা এর দায়িত্বে থাকেন না। টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে শুধুমাত্র তাদের লাইসেন্সগুলো ব্যবহার করা হয়। ফলে সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষও ঠিকাদারদের কাজের চাপ দেয়নি।
পৌর শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র স্টেশন রোড এলাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজে স্থবিরতার ফলে বেড়েছে জনভোগান্তি। অল্প বৃষ্টিতে ড্রেনের ময়লা পানি আর কাঁদায় সয়লাব রাস্তায় জনসাধারণের চলাচলে পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। সরেজমিনে ফকিরশাহের মোকাম রাস্তা, মুড়িরগুল, হাটবন্দসহ বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্প এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জনদুর্ভোগের এসব তথ্য ও চিত্র পাওয়া গেছে। স্টেশন রোড এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেশন রোড এলাকা বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসার মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাস্তাটির পাকাকরণ কাজের টেন্ডার অনেক আগে হয়েছে শুনেছি। কিন্তু কাজের বেলায় কোনো অগ্রগতি দেখছি না। শুধু আজ কিংবা কাল হবে বলে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন আমরা সীমাহীন কষ্টের শিকার হচ্ছি।
বাঁশতলা রাস্তা উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার মখলিছুর রহমান জানান, কাজের অনুমতি পেয়েছি মাত্র দেড়মাস আগে। কাজের লে-আউটের জন্য প্রকৌশলীর কাছে কয়েকবার ধর্ণা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। লে-আউট করলে কাজটি দ্রুত শুরু করবেন। এদিকে ফকিরশাহের মোকাম রাস্তা উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার মহিউদ্দিন আহমদ জানান, টেন্ডার হওয়ার পর মধ্যখানে ইঞ্জিনিয়ারকে পাওয়া যায়নি। তাই অফিসিয়াল কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে পারিনি। পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেহীন সিদ্দিকী জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সঠিক সময়ে হাটবন্দ কটির বাসা হতে নাজমার বাসা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ না করায় ড্রেনের জায়গা বেদখল হচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমছে। এতে জনগণকে চরম কষ্ট করতে হচ্ছে। অপর এক ঠিকাদার জানান, কাজের ইস্টিমিটের জন্য তিনি সহকারী প্রকৌশলীর নিকট ৪ বার গিয়েও তাকে পাননি। এজন্যই তিনি নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে পারেননি।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নূরুল আলম জানান, ১১টি প্রকল্পের ২টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য কাজগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্নের তাগিদ দেয়া হচ্ছে। সংশ্লি¬ষ্ট ঠিকাদার যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করেন তবে তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালা (পিপিআর) অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত