রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে কল্পিত ৫ লাখ টাকা লুটের মামলায় একই পরিবারের নারী সহ ৯ জন পুলিশী হয়রানীর শিকার



সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা ::মিথ্যা মামলায় পুলিশী হয়রানী ও কারাবাসের শিকার হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ৪ ব্যবসায়ী। একই পরিবারের নারী সহ ৯ জনকে ওই মামলায় ওসির বিরুদ্ধে উৎকোচ বাণিজ্য ও হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাদলারপাড় (ননাই) গ্রামের মুরগী ব্যবসায়ী কালা মিয়ার ছেলে সোহাগ তিলকে তাল করে তার সৎমাকে ভিকটিম সাজিয়ে কল্পিত ৫ লাখ টাকা লুটে নেয়ার গুজব ছড়ানোর পর থানায় এজাহার দাখিলের পুর্বেই খুঁটির জোড়ে ৪ জনকে পুলিশ দিয়ে আগাম গ্রেফতার করিয়ে শশুর বাড়ির পুলিশী সক্ষতা – ক্ষমতার অপব্যবহারের জানান দিয়েছে।”
জানা গেছে, উপজেলার বাদলারপাড় গ্রামের নজরুলের সাথে কালা মিয়ার ছেলে সোহাগ কাপড় দোকানের মাত্র ৬৫০ টাকা পাওনা নিয়ে বাদাঘাট বাজারে ৬ মার্চ বিকেলে কথা কাটাকাটি হয়। রাত প্রায় ১০ টার দিকে ব্যবসায়ীক কাজ শেষে নজরুল বাড়ি ফেরার পথে বাদলারপাড় বাড়ির সামনে সোহাগ ও তার স্বজনারা টাকা আদায়ের জন্য আটক করলে খবর পেয়ে গ্রামাবাসী এসে সোহাগ ও তার লোকজনের কবল থেকে নজরুলকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর পরিকল্পিত ভাবে সোহাগ তার সৎমা শাহারা খাতুনকে ব্ল্যাড দিয়ে মাথায় কাঁটা ছেড়া ও কাপড় ছিড়ে আকস্মিক মুমুর্ষ ভিকটিম বানিয়ে ৫ লাখ টাকা লুটের গুজব ও হামলার কথা অপপ্রচার করতে থাকে।’ এদিকে সোহাগের শশুর কয়লা ব্যবসায়ী আবদুস শহীদ ওরফে বস্তা শহীদ ও তার নিকটাত্বীয় মাটিকাঁটার অপর কয়লা ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুছ ওরফে বেল কুদ্দুছ (ওসির মামা খ্যাত) এ ঘটনায় থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে তদবীর ও মোটা অংকের উৎকোচ প্রদানের প্রস্তাব দিলে আধা ঘন্টার মধ্যে রাত সাড়ে ১০টায় একতরফা ভাবে নজরুল সহ পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। সৎমাকে মৃত্যুপথযাত্রী ভিকটিম সাজিয়ে প্রথমে তাহিরপুর ও পরে ৭ মার্চ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলেও চিকিৎসকরা ৯ মার্চ রোগীনীকে সুস্থ্য দেখিয়ে ছাড়পত্র ছাড়পত্র দেন। এদিকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ইচ্ছেমত নিজেদের অনুকুলে নিতে ফের সোহাগ ও তার বাবা মুরগী কালা শাহারাকে মারপিট করে চিকিৎসা সনদের আশায় আরো দু’দিন পর সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকেও সৎমাকে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।’
এদিকে ৬৫০ টাকার পাওনা আদায়ের ঘটনা আড়াল করতে গিয়ে ওসি নন্দনকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে ও থানার মুন্সী আমিরের সহায়তায় সোহাগ ৭ মার্চ বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও ৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনা উল্ল্যেখ করে একই গ্রামের মজু ব্যাপারীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী রহিছ , তার সন্তান সম্ভাবা স্ত্রী হ্যাপী আক্তার, রহিছের সহোদর ফারুক, কাদিরের ছেলে নজরুল, বিল্লালের ছেলে কাউছার, মৃত হাসেমের ছেলে মতি মিয়া, মরম আলীর ছেলে সেন্টু, লায়েছ, বাচ্চু, সহ আরো অজ্ঞাত নামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। যা তাহিরপুর থানায় মামলা নং-০৫,তাং-০৭/০৩/১৭ইং.ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৮০/৪২৭/ ৫০৬/১১৪ দ.বি.। মামলা রেকর্ডের পুর্বেই রাতে রহিছ, নজরুল, ফারুক ও বাচ্চুকে আগাম গ্রেফতার করে পরদিন মামলায় গ্রেফতার দেখান সুকৌশলী ওসি ও তদন্তকারী অফিসার।
এদিকে জেল হাজাতে থাকার একদিন পর বাচ্চু ও পরে এক সপ্তাহ পর ফারুক জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে ওই মিথ্যা মামলায় ব্যবসায়ী রহিছ ও নজরুল দু’জন আজো কারাবাস করছেন।’ অপরদিকে থেমে নেই পুলিশের হয়রানী বাণিজ্য। আসামী গ্রেফতারের নামে রহিছের সন্তান সম্ভাবা স্ত্রী সহ পরিবারের লোকজন এখন পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত না করেই কী করে থানার ওসি কাদের ইশারায় একই পরিবারের এক নারী সহ ৯ জনকে পুলিশী হয়রানী উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা রেকর্ড করলেন?।
তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন এ মামলার প্রসঙ্গে বলেন, হুট করে এ ধরণের একটি মিথ্যা মামলা নেয়াটা ওসির সঠিক হয়নি। ৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনাও আমার নিকট অলৌকিক বলেই মনে হচ্ছে।’
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, এ ধরণের ঘটনা আমাকে কেউ অবহিত করেননি পরে শুনেছি একটি তুচ্ছ ঘটনায় ৫ লাখ টাকা লুট ও হামলার মামলা নিয়ে ওসি এক নারী সহ নিরীহ লোকজনকে হয়ারানী করছেন একই পরিবারে ৯ জনকে।
মামলার বাদী সোহাগের বক্তব্য জানতে চাইলে সে বুধবার বিকেলে জানায়, মামলার ব্যাপারে আমি কী বলব, সব আমার শশুড় শহীদ ও কুদ্দুছ মিয়া এবং ওসি সাহেব জানেন।’
মামলার তদন্তকারী অফিসার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অজয় কুমার দাস বলেন, এক্ষেত্রে আমার করার কিছুই নেই ওসি সাহেব যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন আমি সেভাবেই ঘটনা শুনে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছি।’
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বুধবার বলেন, প্রথমে ঘটনাটি আমাকে বাড়িয়ে বলা হয়েছে এ কথা সত্য , সোহাগ ও তার লোকজন জানিয়েছে শাহারা খাতুন মৃত্যুপথযাত্রী এখন মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে আসার পরই মুল প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হবে। এছাড়াও তিনি বলেন, তদন্তে ৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। ##

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত