বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মুফতি হান্নানের ফাঁসির দিন গণনা শুরু



ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের মৃত্যু পরোয়ানা বুধবার রাতেই পড়ে শোনানো হয়েছে। আর বুধবার থেকেই তাদের ফাঁসির দিনক্ষণ শুরু হয়েছে।
ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত তিন জঙ্গির মধ্যে মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুল রয়েছেন গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি এবং দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন রয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে।
আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জেনারেল ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী জানান, বুধবার রাতে মুফতি আব্দুল হান্নানের মৃত্যু পরোয়ানা পেয়েছি। বুধবার আমরা তাকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শুনিয়েছি এবং সেসময় থেকেই ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। । তিনি মার্সি পিটিশন করবেন বলে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আইন অনুযায়ী তিনি সাতদিনের সময় পাবেন। এখন তিনি (মুফতি হান্নান) সাতদিনের মধ্যে সে আবেদন করবেন কিনা এ ব্যাপারে কিছু জানাননি।
তিনি আরো বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখান হলে সরকার কারাবিধি অনুযায়ী তাদের দণ্ড কার্যকর করবে। সরকারের নির্দেশনা পেলে দণ্ড কার্যকরের সব প্রস্তুতি রয়েছে।
অপর দিকে সিলেট কেস্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেলসুপার ছগির মিয়া বলেন, আপিল বিভাগে রিভিউ খারিজের রায় এবং বিচারিক আদালতের পরোয়ানা পড়ে শোনানো হলে বুধবার রিপন বলেছিলেন, স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে রিপন জানিয়েছেন, তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন। আবেদন করার জন্য সাতদিন সময় পাবেন। সেই দিন গণনা বুধবার ধেকে শুরু হবে।
উল্লেখ্য, মুফতি হান্নান ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৭টি হামলার মূল হোতা । এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ১০১ জন , আহত হয়েছেন ৬০৯ জন। এর মধ্যে একটি হামলা ও দুটি হামলা চেষ্টার ঘটনার মূল টার্গেট ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর বাড্ডার বাসা থেকে গ্রেফতার হয় মুফতি হান্নান।
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হলে তিন জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৭০ জন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের বিচারিক আদালত হুজি প্রধান মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আসামিপক্ষ এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের শুনানি শেষে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল খারিজ হয়ে যায়। গত ১৭ জানুয়ারি এ রায় প্রকাশের পর আসামিরা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। ১৯ মার্চ এ রায়ও খারিজ করে দেন আদালত।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত