শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লন্ডন হামলা: নিহতদের স্মরণে বন্ধু ও আত্মীয়রা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আমেরিকান নাগরিক কার্ট কোচরান তার বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করছিলেন, আয়শা ফ্রেড লন্ডনের এক কলেজের ষষ্ঠ-ফর্ম কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে তা এখন শুধুই অতীতের গল্প। কোনোরকমে বেঁচে যাওয়া আন্দ্রিয়া ক্রিস্টিয়া প্রেমিকের জন্মদিন পালনের উদ্দেশ্যে উড়ে এসঠিলেন লন্ডনে। ওয়েস্টমিনিস্টার আক্রমণের পর তীব্র বেদনা নিয়ে ফ্রান্সে অপেক্ষারত ছিলেন তার বাবা-মা।
গত বুধবার লন্ডনে পার্লামেন্টে অধিবেশন চলাকালীন অতর্কিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৫ জন নিহত ও অন্তত আরো ৪০ ব্যক্তি মারাত্মক আহত হয়। এ ঘটনার পরপরই দেশটির জনমনে নেমে আসে অবাক বিহ্বলতা। বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। লন্ডনের পাশে থাকার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন বিশ্বনেতারা।

তবে এখন পর্যন্ত আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের মন থেকে উড়ে যাচ্ছে না এই ভয়াবহ ক্ষতের দাগ। নিহতদের বিভিন্নভাবে স্মরণ করছেন বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয় স্বজনেরা। তাদের চোখের সামনে কেবলই ভেসে বেড়াচ্ছে আপনজনের সঙ্গে কাটানো অনুষঙ্গের গল্প-কথা। বারবার ফিরে আসছে দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তগুলি।
হামলার সময়, কার্ট কোচরান তার স্ত্রী মেলিসাকে নিয়ে ওয়েস্টমিনিস্টার সেতুতে হাটছিলেন। ইউরোপ ভ্রমণের শেষ ধাপে এসে তারা এখানটিতেই পৌঁছেন, ঠিক যেখানটিতে ওঁতপেতে থাকা হামলাকারী খালেদ মাসুদ তাদের উপর দিয়ে দ্রুতগতির গাড়ি চালিয়ে দেন। এসময় প্রাণ বাঁচাতে অনন্যোপায় কার্ট সেতু থেকে লাফ দিয়ে নীচে পড়ে নিহত হন। গুরুতর আহত তার স্ত্রী বৃহস্পতিবার লন্ডনের এক হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কেবল প্রিয়তম সঙ্গীকে খুঁজে ফেরেন। কয়েকদিন আগেই যারা তাদের ২৫ তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে ইউরোপে এসেছেন।

কোচরানের মৃত্যুতে তাকে একজন সাহসী সৈনিক ও গানপ্রেমী মানুষ উল্লেখ করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে শোকানুভূতি জ্ঞাপন করা হয়েছে। বোনজামাতা সান্তেল তার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কার্টের মতো ভারী হৃদয়ের একজন ভাই, বাবা, স্বামী, পুত্র ও বন্ধু হারানোটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দু:খজনক।’
হামলায় নিহত আরেক ব্রিটিশ মা আয়শা ফ্রেড। ঘটনার দিন তিনিও তার দুই মেয়েকে স্কুল থেকে বাসায় নেয়ার উদ্দেশ্যে ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজের উপর দিয়ে হাটছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনেও স্পেন থেকে তার স্বামী ও দুই বোন ছুটে আসেন লন্ডনে। ফ্রেডের শৈশবের বেড়ে ওঠা স্পেনের ছোট্ট শহর বেতানজোস এর মেয়র র‌্যামন গার্সিয়া ভাজখুয়িজ জানান, ‘এই শহরের অনেক মানুষই ফ্রেডকে চিনতো এমনকি সে প্রতিটি গ্রীষ্ম সন্তানদের নিয়ে এখানে এসে কাটাতো।’

ভয়াবহ এই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা রোমানিয়ান পর্যটক ক্রিস্টিয়া। হামলার সময় তিনিও ওয়েস্টমিনিস্টার সেতু থেকে প্রাণ নিয়ে লাফিয়ে পড়েন পানিতে। পরবর্তীতে গুরুতর আহত হয়ে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কোস্ট-গার্ডের সদস্যরা। তিনিও মারাত্মক এই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা ভুলতে পারছেন না। পরে লন্ডনের হাজারো জনতার সঙ্গে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে নিহতদের স্মরণে ঘটনাস্থলে আবারো এসে উপস্থিত হন তিনি। দ্য গার্ডিয়ান।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত