রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের দশম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী নিজের বাল্য বিবাহ ঠেকিয়ে দিল



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে পড়–য়া এক স্কুল ছাত্রী বাধ্য হয়ে নিজেই নিজের বিয়ে ঠেকিয়ে দিল। পরিবারের অবিভাবকদের বাল্যবিবাহের আয়োজন থেকে বিরত রাখতে না পেয়ে শেষ পর্য্যন্ত শুক্রবার ওই স্কুল ছাত্রীর নাম পারুল আক্তার। সে উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বুরুঙ্গাছড়া গ্রামের মদরিস মিয়ার কিশোরী কন্যা। জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরেই উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়নের দিঘলবাগ গ্রামের বাহারের ছেলে জহুরুলের সাথে বুরুঙ্গাছড়া ছড়ার মদরিসের স্কুল পড়–য়া কিশোরী কন্যা পারুলের সাথে বিয়ের আলাপ আলোচনা চলছিলো। গত ১৫ দিন ধরে অভিবাকগণ পারুলের স্কুলে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেন। লেখাপড়া করার প্রবল আগ্রহ দেখিয়ে শুরু থেকেই ওই বিয়েতে অসম্মতি প্রকাশ করে আসছিল পারুল। পরিবারের লোকজন বিয়ে দিতে অনঢ় থাকায়, শুক্রবার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেললে বাধ্য হয়ে পারুল সহপাঠীদের মাধ্যমে টাঙ্গুয়ার হাওরের তদারকিতে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে বিয়ে বন্ধ করতে সহায়তা চায়। বিয়ের প্যান্ডেল, গরু, খাঁসি, রোষ্ট বিরিয়ানী সহ ভুরিভোজের সব আয়োজনও প্রায় শেষ করে নিয়ে আসার পর পারুলের সহপাঠীরা বিষয়টি শুক্রবার দুপুরে দ্রুত ট্যাকেরঘাট অতিথি ভবনে থাকা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে অবহিত করেন।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: ফয়সাল রায়হান ঘটনা শুনে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে পারুলের সাথে কথা বলে তার এ বিয়েতে অসম্মতি ও জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী বিয়ের নির্ধারিত বয়স না হওয়ায় ওই বাল্য বিবাহরে সব আয়োজন বন্ধ করে দেন।
বাল্য বিবাহের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া স্কুল ছাত্রী পারুল শুক্রবার সন্ধায় তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, আমি আমার সহপাঠী ও জেলা প্রশাসনের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, সবার সহযোগীতায় আমি বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি, আশা করি শনিবার (কাল) থেকে পুন:রায় স্কুলের পাঠ গ্রহনে সহপাঠীদের সাথে উপস্থিত হতে পারব।##

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত