শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রমাণ না দিতে পারলে ক্ষমা চাইতে হবে: ওবায়দুল



নিউজ ডেস্ক: ‘ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে দেশের স্বার্থহানি হয়েছে, এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

৯ এপ্রিল রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সংগঠনটি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চুক্তির লাইন বাই লাইন পড়ে দেখুন, কোথায় দেশ বিক্রি হয়েছে, দেশের স্বার্থহানি হয়েছে? যদি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে এটা প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

বিএনপি ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালন না করায় সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ১৭ এপ্রিলের মধ্যেও কি ভারতের গন্ধ খুঁজে পান? এখানেও কি ভারতবিদ্বেষ? আসলে যারা ৭ মার্চ ও ১৭ এপ্রিল পালন করে না, তাদের বিবেক তো বিক্রি হয়ে গেছে পাকিস্তানের কাছে। তাদের হৃদয় মিলে আছে ইসলামাবাদের সাথে। কাজইে তারা কথায় কথায় দেশ বিক্রির কথা বলবে, এটাই স্বাভাবিক। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে ঐতিহাসিক দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সাথে যে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো কোনো গোপন বিষয় নয়। ভারতের সাথে কী চুক্তি হয়েছে, এটা শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বই দেখেছে।’

তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন। ধৈর্য্য ধরুন। তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টির আরো কয়েক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তি সম্পাদন এখন সময়ের ব্যাপার।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব প্রটোকল ভেঙে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে এসে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন। এ সম্মান শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের। আমাদের শির আরো উঁচু হয়েছে শেখ হাসিনার সম্মানপ্রাপ্তির মাধ্যমে।’

তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পাদন করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি ভারতের জনগণের নেতা। আমি আশা করব, উভয় দেশের জনগণের কথা ভেবে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর চুক্তিগুলো যত দ্রুত করা সম্ভব হবে, ততই মঙ্গল হবে। আপনি জনগণের আবেগ-অনুভূতিকে মূল্য দেবেন। অনতিবিলম্বে পানিবণ্টন চুক্তিগুলো সম্পাদন হলে আমাদের উভয়ের বন্ধুত্ব নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে।’

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা ভারতবিরোধী প্রোপাগান্ডা নয়, ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রজায় রেখে পাওনা আদায় করে নেব। বৈরিতা করে পাওনা আদায় করা যায় না। আমরা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে যেকোনো চুক্তি করে যাব। এতে কে কী মনে করল, আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা বিদেশি কোনো শক্তিকে তোষণ করে ক্ষমতায় যেতে চাই না।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি দুটি চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছি। একদিকে পরিবহনে শৃঙ্খলা, অন্যদিকে আওয়ামী লীগে শৃঙ্খলা। দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমি যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছি। আমার কোনো পিছুটান নেই। নেত্রী আমাকে বড় আশা করে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তার মুখরক্ষা করতে চাই। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই। আওয়ামী লীগের ক্ষতি হলে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক সময়ে অনৈক্যের কারণে মাশুল দিতে হয়েছে। আমরা আর অনৈক্যেও কারণে মাশুল দিতে চাই না।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সভা পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত