শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জুড়ীর ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিকে ৪০০তম নরমাল ডেলিভারীর রেকর্ড



বিশেষ প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীর ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিক ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোরে ৪০০তম নিরাপদ স্বাভাবিক ডেলিভারী পূর্ণ করে সিলেট বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রসব সম্পন্নকারী কমিউনিটি ক্লিনিকের গৌরব অর্জন করেছে। অভাবনীয় এ সাফল্যে ক্লিনিকের সিএইচসিপি হানিফুল ইসলাম ও পিসিএসবিএ লিপা খানমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ জেলা সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তীর মাধ্যমে টেলি কনফারেন্সে অভিনন্দন জানিয়ে তাদেরকে সম্মাননা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিপূর্বে এ ক্লিনিক জাতীয় পর্যায়ে ৪র্থ স্থান অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করেন। সরেজমিনে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে জুড়ীর গোবিন্দপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের স্ত্রী সীমা বেগমের (২৮) পুত্র সন্তানের স্বাভাবিক ডেলিভারীর মাধ্যমে ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিকের ৪০০তম ডেলিভারী পূর্ণ হয়।
সিসির সিএইচসিপি হানিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে, সিএইচভি জামিরুন বেগমের সহায়তায় পিসিএসবিএ লিপা খানম সফলভাবে এ ডেলিভারী সম্পন্ন করেন। এসময় জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন আহমদ, সিসির সভাপতি ফয়জুল ইসলাম, সহসভাপতি ময়নুল ইসলাম, জায়ফরনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল ইসলাম মাস্টার উপস্থিত ছিলেন। আর এ ডেলিভারীর মধ্যদিয়েই ক্লিনিকটি সিলেট বিভাগের মধ্যে নিরাপদ ডেলিভারীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সাফল্যের খবর জেনে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ অত্র সিএইচসিপি হানিফুল ইসলাম ও পিসিএসবিএ লিপা খানমকে তাৎক্ষণিক অভিনন্দন জানিয়ে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ সিসির সিএইচসিপি হানিফুল ইসলাম জানান, ইতিপূর্বে এখানে বিনা অস্ত্রপচারে তিনবারে ৬ যমজ সন্তানের নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। ৮০তম, ২০০তম ও ২৯৬তম ডেলিভারী যমজ হয়েছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল ইসলাম মাস্টার জানান, ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রসুতি, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৩ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ট ও জাতীয় পর্যায়ে ৪র্থ স্থান অর্জন করে। যার মাধ্যমে এ সফলতা অর্জিত হচ্ছে সেই পিসিএসবিএ লিপা খানম বিনাবেতনে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের উচিত তাকে সম্মানী প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী জানান, একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৪০০ নরমাল ডেলিভারীর রেকর্ড অনেক বড় ঘটনা। এ অর্জন শুধু জুড়ীবাসীর নয়, সারা জেলার গর্বের বিষয়। এ ঘটনার মাধ্যমে সারা দেশে জুড়ী পরিচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক খবরটি জেনেই মহতি কাজের কারিগর হানিফুল ইসলাম ও লিপা খানমকে তাৎক্ষণিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তারাসহ সারা দেশের যেসব সিসি ইতিপূর্বে ৪০০ সফল ডেলিভারী পূর্ণ করেছে তাদের প্রত্যেককে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত