সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হাকালুকিতে আজ থেকে মাছ ধরা যাবে : জেলেদের স্বস্তি



বড়লেখা সংবাদদাতা ::হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলের পানি এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক। আজ বুধবার থেকে হাওরপারের জেলেরা মাছ ধরতে পারবেন বলে প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। তবে মৎস্য আইন অনুযায়ী বৈধ পন্থায় মাছ ধরতে বলা হয়েছে। আজ বুধবার থেকে মাছ ধরা যাবে এমন খবরে হাকালুকির পারের ১০ হাজার জেলেদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
এ দিকে হাওরে মরে যাওয়া ২৫ টন মাছের ঘাটতি পূরণে ১৮ লাখ পোনা অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা। এরমধ্যে হাওরের বড়লেখা অংশে প্রায় ৬ টন মাছ অবমুক্ত করা হবে।
চলতি মাসে অকাল বন্যায় ধান পচে পানিতে অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সৃষ্টি হওয়ায় পানি দূষণের কারণে নানা জাতের ২৫ টনেরও বেশি মাছ মারা যায়। এরমধ্যে হাওরের বড়লেখা অংশে মারা যায় প্রায় ১০ টন মাছ।
ধান পচে মাছের মড়কের কারণে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করে। আয়ের একমাত্র উৎস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় হাওরপারের অধিকাংশ জেলে পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। তবে আজ থেকে মাছ ধরতে পারবেন এ খবরে তাদের মধ্যে কিছুটাও হলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা ধান ও ধানগাছ পচে পানিতে অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সৃষ্টি হওয়ায় পানি দূষণের কারণে হাওরে আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, কাল বাউস, সরপুঁটি, পাবদা, ঘুলশা, টেংরা, পুঁটি, বাইমসহ নানা জাতের প্রায় ২৫ টনের মাছ মারা গেছে। ধান ও মাছ পচে হাওরের পানি দূষিত হয়ে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
বড়লেখা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার হাকালুকিপারে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাকালুকি হাওর অংশের ৩৬০০ হেক্টর ধান ২/৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে বর্ণি, সুজানগর ও তালিমপুর ইউনিয়নের ৪১২০ কৃষক পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী ‘অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়া এইসব আধাপাকা ধান ও ধানগাছ পচে পানির গুণাগুণ নষ্ট করেছে। এছাড়া ধানগাছ এবং ঘাসে নিধনের বিষের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে হঠাৎ পানির (পিএইচ) কমে যাওয়ায় (পিএইচ-৫.৮) অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দ্রবিভূত অক্সিজেন হ্রাস (৫ পিপিএম) হওয়ায় ধান ও মাছ পচে হাওরের পানি দূষিত হয়ে পড়ে।
এরপর পানি দূষণমুক্ত ও মাছ মড়করোধে গত ১৮ এপ্রিল থেকে হাকালুকি হাওরের বড়লেখা অংশের বিভিন্ন বিলে মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে চুন ছিটানো শুরু হয়। এরপর থেকে পানির গুনাগুণ বাড়াতে থাকে। প্রায় ৫টনেরও বেশি চুন পানিতে প্রয়োগ করা হয়। তাছাড়া গত দুদিন থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাণ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আবু ইউসুফ মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, ‘হাওরের পানি এখন দূষণমুক্ত। চুন ও ঔষুধ প্রয়োগের ফলে হাকালুকি হাওরের পানি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। তাছাড়া মাছ এখন আর মরছে না। জেলেরাও মাছ ধরতে পারবেন। এখন থেকে মাছ খাওয়াও যাবে। এছাড়া মাছের ঘাটতি পূরণে হাওরের বড়লেখা অংশে ৬টনসহ মোট ১৮ টন পোনা অবমুক্ত করা হবে।’
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘হাকালুকি হাওর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের তালিকা করা হয়েছে। খাদ্য ও অর্থ সহায়তা (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ৪৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সোয়া ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে হাওরপারের বর্ণি, তালিমপুর ও সুজানগর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল ও টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সেক্টর থেকে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত