মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশান্ত হলেন অসহায় লীলাই বিবি



মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,কমলগঞ্জ:: ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরে সামনে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন, চোখে মুখে হতাশার চাপ। হাওমাউ করে কাদঁছেন এমন দৃশ্য দেখা যায় কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের কোনা গাঁও গ্রামের লীলা বিবির বাড়িতে। অসহায় বৃদ্ধ লীলা বিবি ঝিয়ের কাজ করে তৈরী করা বসত ঘরটি মাটিতে মিশে গেছে শুক্রবারের হঠাৎ করে আসা কাল বৈশাখী ঘূর্ণি ঝড়ে। তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। এখন ও কেউ এগিয়ে আসেননি সহযোগীতায়। ভাঙ্গাঘরের নিচে বসে অসহায় চোখে তাকিয়ে আছেন, কারো সহযোগিতা পাবার আশায়।
রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের হাহাজারী। গ্রামগুলোর প্রতিটি বাড়িতে ঝড়ের আঘাতের চিহ্ন। কথা হলো ইসলামপুর ইউণিয়নের সর্বশান্ত বসত ঘর হারানো অসহায় ইসলামপুর ইউনিয়নের কোনা গাঁও গ্রামের লীলা বিবির সাথে। তিনি জানান, জীবনের শেষ সময়ে পড়ের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে একটি বসত ঘর তৈরী করেছিলেন। সেই একমাত্র টিনের ঘরটি ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে মাটির সাথে মিশে গেছে।
তিনি বলেন, ১৫-২০ বছর আগে স্বামী ষোলই মিয়া তিন সন্তানকে রেখে মারা গেলে, জীবিকার তাগিতে পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোন রকমে জীবন চালাচ্ছেন। তিন সন্তানের লালন পালন শেষে অবশিষ্ট কোন আয় থাকে না। দুই ছেলে বিয়ের পর পৃথক হয়ে যায়। আর মেয়েকে দিতে ভিটামাটি সব বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন সরকারী খাস জায়গায় মাথাগোজার ঠাই হিসেবে দায়-দেনা করে ছোট একটি কুড়েঘর তৈরী করেছিলেন। সেখানে থেকেই তিনি পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতো লীলাই বিবির একার সংসার। কিন্তু তার মাথা গোজার একমাত্র অবলম্বনটি ঘূর্ণিঝড়ে ধ্বংস হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তার আশা সমাজের বিত্তবান মানুষেরা এগিয়ে এলে হয়তো এ লীলা বিবি জীবনের বাঁচার জন্য নতুন ঠিকানা খোঁজে পাবেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত