বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভালবেসে বিয়ে, স্বর্না দাশ পপি থেকে স্নেহা আহমেদ পপি



ডেস্ক রিপোর্ট:: ভালবেসে পিতা মাতার অমতে বিয়ে করার পর মিথ্যে অপহরণ মামলা দিয়ে বার বার হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হিলালপুর এলাকার অরুন চন্দ্র দাশের মেয়ে স্বর্না দাশ পপি (১৮) মৌলভীবাজার শহরের ইম্পিরিয়াল কলেজের আই এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সে অনেক দিন ধরে পাশের এলাকা বাহারমর্দানের মৃত জালাল আহমদের ছেলে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের ছাত্র জামিল আহমদ তানভীরকে(২০) মনে প্রানে ভালবাসতো। বিয়ে করে সংসার করার লক্ষ্যে গত ৯ জানুয়ারী ২০১৭ ইং সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকার সময় স্বর্না দাশ তার কলেজ থেকে জামিল আহমদ তানভীর এর সাথে চলে যায়। অরুন চন্দ্র দাশ মেয়ের খোজে কলেজে আসার পর জানতে পারেন মেয়েটি প্রাইভেট কার যোগে কলেজ থেকে পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে অরুন চন্দ্র দাশ মৌলভীবাজার মডেল থানায় জামিল আহমদ তানভীরকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নং ১৭ দায়ের করেন। কিন্তু মামলার স্বাক্ষী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষক মফিদুল ইসলাম, দারোয়ান আ: করিম, কলেজের বুয়া শামসুন্নাহার, কলেজের পাশের খান লাইব্রেরীর মালিক নিক্সন মিয়া তাদের জবানবন্দীতে কলেজের সম্মুখে অপহরণের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন।
স্বর্না দাশ পপিও তার জবানবন্দীতে তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় জামিল আহমদ তানভীর এর সাথে চলে এসেছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন।।
এদিকে স্বর্না দাশ পপি ১২ জানুয়ারী ২০১৭ ইং মো: আ: মালিক নোটারী পাবলিক হবিগঞ্জ এর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে রেজি: নং ১৪৪ তারিখ ১২ জানুয়ারী ২০১৭এ সম্পাদিত এক এফিডেভিট মুলে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্ম গ্রহন করেন। তার নতুন নাম রাখা হয় ¯েœহা আহমেদ পপি।
এদিকে ¯েœহা আহমেদ পপি ও জামিল আহমদ তানভীর উভয়ে ১৫ জানুয়ারী ২০১৭ ইং মো: আ: মালিক নোটারী পাবলিক হবিগঞ্জ এর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে রেজি: নং ১৪৭ তারিখ ১৫ জানুয়ারী ২০১৭ এ সম্পাদিত পৃথক এক এফিডেভিট মুলে ২ লক্ষ টাকা দেনমোহর সাব্যস্থ ক্রমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ওপর মামলা থাকায় তারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে বিভিন্ আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে বসবাস করতে থাকেন। গত ১৬ জানুয়ারী মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ¯েœহা আহমেদ পপি ও জামিল আহমদ তানভীরকে আটক করে। পুলিশ ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পপিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ও তানভীরকে আদালতে সোপর্দ করে। বেশ কিছুদিন জেল কাটার পর বিজ্ঞ আদালত তানভীরকে জামিনে মুক্তি প্রদান করেন।
এদিকে অরুন চন্দ্র দাশ গোপনে পপিকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে গত ৩০ মার্চ গাড়ী যোগে জকিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পপি এটা বুঝতে পেরে তানভীরের কাছে তাকে উদ্ধারের জন্য মোবাইলে মেসেজ পাঠায়। তানভীর মেসেজ পেয়ে প্রাইভেট কারযোগে রওয়ানা দেয়। গোলাপগঞ্জ থানার বৈটিকরবাজারের নুরজাহান সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনে অরুন চন্দ্র দাশের গাড়ী থামলে পপি তানভীরের কারে উঠে আসে। পরে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করে গোলাপগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। অরুন চন্দ্র দাশ নিজে বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নং ১৪ দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে তানভীরকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে সিলেট জেলা কারাগারে পাঠায়। বর্তমানে তানভীর জেল হাজতে আছে।
জামিল আহমদ তানভীরের মা সেলিনা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান অরুন চন্দ্র দাশ বার বার মিথ্যে অপহরণ মামলা দিয়ে তার ছেলেকে জেল খাটাচ্ছে। পপি তার ছেলের কাছে আসতে চাইলেও তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। বর্তমানে পপিকে জোরপূর্বক ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত