বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন: শমশেরনগর-চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কে মনু সেতু ঝুঁকিতে



Exif_JPEG_420

বিশেষ প্রতিনিধি: কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নে পাহাড়ী খরস্রোতা মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে অব্যাহত ভাঙ্গনে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে শমশেরনগর-চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কের মনু সেতুটি। সেতু ভেঙ্গে গেলে শরীফপুর ইউনিয়নবাসীর সরাসরি যাতায়াতসহ ভারতের ত্রিপুরার সাথে আমদানি রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাধ্যমে শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় মনু নদের উপর ১ দশমিক ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি পাকা আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করেছিল। সেতু নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আর ২ কোটি টাকা বর্ধিত করে মোট ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীফপুর সীমান্ত এলাকায় মনু সেতু নির্মিত হয়েছিল। ২০০৫ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেতুটি উদ্বোধন করেন।
সীমান্ত এলাকায় মনু নদের উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতু নির্মাণ করে দেয়ার পর থেকে শরীফপুর ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি যাতায়াত করতে পারেন শমশেরনগর হয়ে জেলা সদর মৌলভীবাজারসহ সারা দেশের সাথে। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি রফতানি কার্যক্রমসহ, ভিসা নিয়ে দুই দেশের যাত্রীদের যাতায়াত বেড়ে যায়।
চাতলাপুর চেকপোষ্টের অভিভাসন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জামাল উদ্দীন বলেন, সেতু না থাকার সময় এ পথে বাংলাদেশী ও ভারতীয় যাত্রী যাতায়াত করতেন মাসে ২০ থেকে ২৫ জন। আর সেতু নির্মাণের পর এখন গড়ে প্রতিদিন ২০ জন যাত্রী যাতায়াত করছেন।
সেতুর কারণে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার সাথেও আমদানি রফতানি কার্যক্রম অনেকগুণ বেড়ে গেছে। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনু নদের উপর একটি সেতু থাকায় এখন প্রতিদিনি গড়ে ১০ ট্রাক বাংলাদেশী বিভিন্ন কোম্পানীর সিমেন্ট, প্রাণ-আরএফ এল সামগ্রী, মাছ, খৈল, প্লাষ্টিক ডোরসহ নানা পন্য রপ্তানি হচ্ছে উত্তর ত্রিপুরায়। পাশাপাশি উত্তর ত্রিপুরা থেকেও কমলা, সাতকরা, কলাসহ নানান সামগ্রী আসছে বাংলাদেশে।
সাম্প্রতিক দুই দফা টানা প্রবল বৃষ্টির ফলে ভারতীয় পাহাড়ি উজানী ঢলের পানির ¯্রােতে মনু সেতু এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গন এখন মনু সেতুর উত্তর পশ্চিম প্রান্তে এসে লেগেছে। আবারও পাহাড়ি ঢলের পানি আঘাত করলে সতেুর নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে সেতুর একটি প্রান্থ ভেঙ্গে যেতে পারে।
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের অব্যাহত ভাঙ্গনে সেতু ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি মৌলভীবাজার জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও তিনি এখন পর্যন্ত কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেননি।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের আমদানি রপ্তানি কারক সাইফুর রহমান (লিমন), এমরান আহমদ, কাজী বদরুল ইসলাম, সোহেল আহমদ বলেন, অচিরেই চাতলাপুরে মনু সেতু এরাকায় মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি পানির স্রোতে প্রতিরক্ষা বাঁধ সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে সেতুটির একাংশও ভেঙ্গে যেতে পারে। তখন মানুষজনের যাতায়াতসহ আমদানি রফতানি বন্ধ হয়ে যাবে।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলমও বলেন, চাতলাপুর বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন মনু সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি রফতানি বাণিজ্য ছাড়াও একটি ইউনিয়নসহ ভারতের সাথে যোগাযোগ রক্ষায়ও এ সেতুর গুরুত্ব অনেক। সেতুটি এখন রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ। এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গনে মনু সেতুর ঝুঁকির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের তাগাদা দেয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, মনু নদে অত্যন্ত খরস্রোতা। উজানে ভারী বৃষ্টি হলেই দ্রুত পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে স্রোতের আঘাতে প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এভাবে প্রতিরক্ষা বাঁধে ভেঙ্গে শমশেরনগর-চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কে মনু সেতু কিছুটা ঝুঁকিতে পড়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত