সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জুড়ীতে ১০ বছর ধরে একঘরে একটি পরিবার



 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের এড়ালিগুল গ্রামে স্থানীয় মাতব্বরেরা একটি পরিবারকে প্রায় ১০ বছর ধরে একঘরে করে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একঘরে করে রাখায় ওই গ্রামের ফাতির আলীর পরিবার লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ফাতির আলীর সঙ্গে ৮ শতক জায়গা নিয়ে তার ভাই শরাফত আলীর বিরোধ ছিলো। ২০০৭ সালের দিকে এক আত্মীয়ের মধ্যস্থতায় বিরোধপূর্ণ জায়গায় ফাতির আলী ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরপর শরাফত আলী বাঁশের বেড়া দিয়ে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা চালান। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন সালিশ বৈঠক ডেকে বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেন। সালিশে স্থানীয় মাতব্বর আপ্তাব আলী, উস্তার আলী, আবদুল লতিফ ও ছমির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে সালিশকারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ফাতির চলে যান এবং থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সালিশকারীরা আবার বৈঠক ডেকে জমি নিয়ে বিরোধ সম্পর্কে পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ফাতিরের কাছে কৈফিয়ত চান। একপর্যায়ে তারা ফাতিরকে একঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৮ বছর আগে স্যাটেলমেন্ট জরিপের সময় ফাতির ও শরাফতের মধ্যকার জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয় ওই মাতব্বরেরা ফাতির আলীর পরিবারকে এখনও একঘরে করে রেখেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর আপ্তাব আলী, উস্তার আলী ও ছমির উদ্দিনের ভাষ্য, ফাতির আলী ও তার স্ত্রী সালিশ বৈঠকের বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজনের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেছেন। তাদের ক্ষমা চাইতে বললেও রাজি হননি। তাই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফাতির আলী জানান, গ্রামের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে তাকেক আমন্ত্রণ জানানো হয় না। স্থানীয় মসজিদে নামাজও পড়তে তাকে বারণ করে দেওয়া হয়েছে। পাশের গ্রামের মসজিদে গিয়ে তিনি নামাজ পড়েন।
ফাতির আলীর মেয়ে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ¯œাতক (সম্মান) শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিনা বেগম জানান, ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি আমরা একঘরে। কারও সঙ্গে মিশতে পারি না, কথাও বলতে পারি না। কেনো আমাদের এ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে জানি না?
মৌলভীবাজার জজ আদালতের অতিরিক্ত সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আবদুল খালিক জানান, সামাজিকভাবে কাউকে একঘরে করে রাখা বেআইনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু চৌধুরী জানান, খোঁজ নিয়ে তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত