শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নির্মাণ করা হচ্ছে সুদৃশ্য প্রধান ফটক



শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত জীব বৈচির্ত্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। চায়ের শহর শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ (কমলগঞ্জ) সড়কের পশ্চিম পাশে জাতীয় এ উদ্যানের প্রবেশপথ।
বাংলাদেশের সাতটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও দশটি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। নানান দুর্লভ জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ আর গাছপালার জন্য এ অরণ্য বিখ্যাত। সুন্দরবনের পরপরই পর্যটকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
অন্যান্য ন্যাশনাল পার্কের মতো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নির্মাণ করা হচ্ছে সুদৃশ্য প্রধান ফটক। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক নির্মাণ কাজ স¤পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত এ বনে মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহনের অবাধ যাতায়াত ছিল। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাসিয়া, বিভিন্ন লেবু ব্যবসায়ী এবং সর্বসাধারণের অবাধ প্রবেশে লাউয়াছড়ার নিরাপত্তা বিঘিœত হয়ে আসছিল।
লাউয়াছড়ার সুরক্ষা নিশ্চিতে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এ প্রধান ফটক নির্মাণ করছে। এ মনোমুগ্ধকর সুদৃশ্য ফটকটি নির্মাণ করছেন ময়মনসিংহের ভাস্কর্যশিল্পী শফিকুর ফেরদৌস।
তিনি জানান, এটি আরসিসি গেট। সিমেন্ট, লোহা ও স্টিলে দিয়ে নির্মিত হচ্ছে গেটের বিভিন্ন অংশ। এখানে থাকবে বৃক্ষ এবং জীবজন্তুর নকশা করা প্রতিকৃতি। গেটের উপড়ে বৃক্ষের পাতায় শতাব্দীর স্মারক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার লেখা হয়েছে।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) তবিবুর রহমান জানান, সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সংরক্ষণে এলাকার ঐতিহ্য তুলে ধরে লাউয়াছড়ায় প্রধান ফটক নির্মিত হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৪ (চার) লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফটক নির্মাণ করা হচ্ছে। ওপরে একপাশে থাকবে লাউয়াছড়ার প্রাণ উল্লুক ও অন্যপাশে অজগর এর প্রতিকৃতি। গেটের উচ্চতা সাড়ে ১২ ফুট ও প্রস্থ ১৩ ফুট। লাউয়াছড়ার ঐতিহ্যকে ধারণ করে ন্যাচারাল কালার দিয়ে গেটের রং করা হবে।
আগামী ১৫ দিন এর মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ওপরে একটি বিশালাকৃতির পাতার ছাউনি দেওয়া হয়েছে এবং রক্তন বা চাপালিশ গাছের মোথার মতো করে দুপাশে গেটের দুটি বিশাল খুঁটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান এসিএফ তবিবুর রহমান।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মৌলভীবাজার রেঞ্জের প্রায় ২,৭৪০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ছিল পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের। বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্যে এই বনের প্রায় ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ, সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা দওয়া হয়।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত