বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফতেপুর’র আবুয়া নদীতে চাঁদাবাজি থামছে না



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আবুয়া নদীতে চাঁদাবাজি থামছে না। চাঁদাবাজরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে নদীতে চলাচলকারী নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নৌকায় থাকা মাঝি ও শ্রমিকদের ওপর চালানো হয় অত্যাচার-নির্যাতন।
স্থানীয়রা জানান, দিন-রাত পালাক্রমে আবুয়া নদীর ফতেপুর পয়েন্ট থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের চাঁদা আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে নৌযান শ্রমিক মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই চাঁদাবাজি ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
আবুয়া নদী থেকে চাঁদা আদায়কারী রুবেল মিয়া মুঠোফোনে বলেন, কীভাবে চাঁদা আদায় করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করতে পারেন না? তারাই বলবে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, চাঁদাবাজদের সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। পুলিশকে বলা আছে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
এদিকে ফতেপুর আবুয়া নদীতে চাঁদাবাজি ও নৌযান শ্রমিক-মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের উপর নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সচেতন নাগরিক ও হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও আন্দোলন কমিটির ব্যানারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মহিবুর রহমান, সহ সভাপতি অলিমান, নজরুল ইসলাম মাস্টার, সাবেক ইউপি সদস্য সুলেমান মিয়া, রাধাকান্ত, শ্রমিকনেতা আবুল কালাম, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
আবুয়া নদীতে চাঁদাবাজির বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মুনির হোসেন মোল্লা বলেন, আমাদের পুলিশি টহল, নজরদারি রয়েছে। এই নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে নৌ শ্রমিক নেতা আব্দুস সালামের দায়ের করা বিশ্বম্ভরপুর থানার মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে চলতি মাসেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা বলেন, আবুয়া নদীতে চাঁদাবাজির বিষয় সম্পর্কে অবগত আছি। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত পৌঁছার আগেই এরা খবর পেয়ে যায়।##

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত