শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধা মাকে লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেন শিক্ষক!



নিউজ ডেস্ক::মওলানা শফিউল আলম নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের এলোপাতাড়ি আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তারই জন্মদাতা বয়োবৃদ্ধ মা ও বাবা। মাদ্রাসা শিক্ষার সনদ নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষকের মর্যাদাধারী এই শিক্ষক তার বৃদ্ধা মা গোলজার বেগমকে দীর্ঘক্ষণ ধরে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেন। মাওলানা পুত্রের কবল থেকে নিজের স্ত্রীকে উদ্ধারে গিয়ে পিতাও পুত্রের মারে আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় কক্সবাজারের রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহজাহান আলী জরুরি ভিত্তিতে ‘অধম’ পুত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রামু থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

গত রাতের এ ঘটনা নিয়ে রামুর ইউএনও বেদনার সাথে জানান, ‘ঘটনার বিষয়টি নিয়ে হতভাগা পিতা ও মা আমার নিকট এসেছিলেন। আমি বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাকে মাওলানা পুত্রের হাতে প্রহৃত হবার সংবাদ শুনে হতবাক হয়েছি।’ একই সাথে রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি- একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় বিষয়ের শিক্ষক কি করে নিজের জন্মদাতা মা-বাবাকে মারতে পারেন সেই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।

ইউএনওর নিকট প্রদত্ত অভিযোগে হতভাগী মা গোলজার বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর প্রথম পুত্র মাওলানা শফিউল আলম দীর্ঘ ১৯ বছর যাবৎ আলাদা ভাবে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। সে খুনিয়া পালং ইউনিয়নের ধোয়া পালং আল ফুয়াদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপশি ধোয়া পালং রাস্তার মাথা স্টেশনে ওষুধের দোকানের ব্যবসাও করে।

এ প্রসঙ্গে খুনিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ বলেন, ‘এটা একটা জঘন্য ঘটনা। মাওলানা শিক্ষক যেখানে শিক্ষার্থীদের পড়াবে মা-বাবাকে সম্মান করতে- উল্টো সেখানে সেই শিক্ষকই মা-বাবাকে মারধর করছে।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত