বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বড়লেখায় কাঁঠাল-আনারসের দাম চড়া



বড়লেখা প্রতিনিধি ::মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কাঁঠাল-আনারসের বাজার দর এখন চড়া। চলতি বছরে সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে উপজেলার সর্বত্র মৌসুমী ফল কাঁঠাল ও আনারসের আকৃতি ছোট হয়ে আশানুরূপ ফলন হয়নি। আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় বাজারের মৌসুমী ফলের সরবরাহ গত বছরের তুলনায় কম থাকায় বাজারে চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে। কাঁঠাল আনারসের ফুল থেকে শিশু ফল বের হওয়ার সময় এ উপজেলায় সময়োপযোগী বৃষ্টি হয়নি।
মৌসুমী ফল কাঁঠাল একেবারে ছোট থাকাবস্থায় মাঝারি বৃষ্টি প্রয়োজন। এ সময় কাঁঠালের গায়ে বৃষ্টির ছোঁয়া ও গাছের গোড়ায় মাটির নিচে শেকড় পানি চুষে নিলে গাছে কাঁঠালের ফলন বৃদ্ধিসহ আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে। একই অবস্থায় আনারসের আকার ছোট হয়ে ফলন আশানুরূপ হয়নি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে কাঁঠাল ও আনারস উৎপাদনকারী চা বাগান ও টিলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনাবৃষ্টি, খরা ও রূদ্রতাপের কারণে কোথাও কাঁঠালের ফলন ভাল হয়নি। গত বছরের তুলনায় গাছে এবার অর্ধেক ফলন হয়েছে। কাঁঠাল ও আনারসের কিছুটা ফলন হলেও এসব ফলের আকার অনেক ছোট হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে বড়লেখার মৌসুমী ফলের বাজারের কাঁঠাল ও আনারসের সরবরাহ গত বছরের তুলনায় অনেক কম বলে বাজার দর খুবই চড়া। উপজেলা সদরের হাজীগঞ্জ বাজারে প্রতি রোববার, মঙ্গলবার ও শুক্রবার মৌসুমী ফলের হাট বসে। সকাল ৮টার ভিতরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা গাড়ি নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারে চলে আসেন। কাঁঠালসহ অন্যান্য পাহাড়ি ফলের জন্য এই বাজার বিখ্যাত। হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাই জানান, শুক্রবার ও রোববার ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা হয়। সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়াতে ফল বাজারে কম থাকায় ব্যবসায়ীরা একটু চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, এবারের কাঁঠাল ও আনারসের আকার গত বছরের চেয়ে অনেক ছোট। ফলে গত বছর যে কাঁঠাল ৫০ টাকায় বিক্রয় হয়েছিল এবার সে কাঁঠাল ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা বিক্রয় হচ্ছে। গত বছর এক হালি (৪টি ) আনারস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রয় হলেও এবার এই আনারস ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। পাইকারি বাজারের গত বছর এক শ কাঁঠাল ২৮ শ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রয় হয়েছিল। এবার ১০০ কাঁঠাল বিক্রয় হচ্ছে ৫ হাজার টাকায়। কাঁঠালের আকৃতি ও ফলন সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রথম অবস্থায় কাঁঠালের জন্য মাঝারি বৃষ্টি প্রয়োজন। আর বৃষ্টি না হলে অন্ততপক্ষে গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হয়। অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে কাঁঠাল উৎপাদনকারী কৃষকরা সময়মত গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে পারেননি বলে এবার ফলন ভাল হয়নি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত