মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী‘দেশে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আবারো দরজায় নাড়া দিচ্ছে’



নিউজ ডেস্ক::দেশে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আবারো দরজায় নাড়া দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যায় মানুষ ত্রাণের অভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে দাবি করে তিনি বলেন, আর সরকার ত্রান নিয়ে বানভাসী মানুষদের সাথে উপহাস করছে। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন বন্যায় ভাসছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে প্লাবিত । এলাকার মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। প্রধানমন্ত্রী যদিও গতকাল বলেছেন-বানভাসীদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। বাস্তবে বানভাসী মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। কোন কোন এলাকায় খাদ্য, পানি বা চাল না দিয়ে খাওয়ার অনুপযোগী সামান্য কিছু গম দিচ্ছে, যে গম প্রচন্ড বৃষ্টিতে শুকাতে কিংবা গম ভেঙ্গে খেতেও পারছে না। এটি কি বানভাসী অসহায় মানুষদেরকে নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে?

তিনি বলেন, আসলে লুটপাটের কারণে রাষ্ট্রীয় খাদ্য ভান্ডারগুলো এখন যে শূন্য সেটা প্রমানিত হচ্ছে। আজকে গণমাধ্যমে আরেকটি খবর বেরিয়েছে-৫ লাখ টন লবণ আমদানি করবে সরকার। দেশের বর্তমান যে অবস্থা তাতে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আবারো দরজায় নাড়া দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে দলের সকল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায় ক্ষুধাগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহবানও জানান।

বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গুম, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক, বিচারবহির্ভূত হত্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আদিম অমানবিকতা বর্তমানে সারাদেশকে গ্রাস করে ফেলেছে। দু:শাসনের বিষাক্ত ছোবলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, মানবাধিকার কর্মী, শ্রমিক নেতা, পেশাজীবী সহ সাধারণ মানুষ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, অদৃশ্য হয়ে গেছে অন্ধকারের অতলে, অথবা গোপন স্থানে বছরের পর বছর আটকিয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কিছুদিন পর কারো কারো লাশ মিলেছে খালে-বিলে-নালা-ডোবায় কিংবা রাস্তার ধারে। আর অন্যদের ভাগ্যে কী জুটেছে সেটি এখনও অজানা।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত