শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা: অস্ত্র ও অর্থদাতাদের খুঁজছে পুলিশ



নিউজ ডেস্ক::জঙ্গিবাদ হারাম ঘোষণা করে এক লাখ আলেমের স্বাক্ষর সংবলিত ফতোয়া প্রকাশের কারণে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদকে হামলার টার্গেট করে জঙ্গিরা। হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নব্য জেএমবি’র মাস্টার মাইন্ড তামিম চৌধুরী ও মেজর জাহিদ দুই জঙ্গি আবির রহমান ও শরীফুল ইসলাম ওরফে শফিউল ইসলাম ওরফে ডনকে সঙ্গে নিয়ে ৫ই জুলাই কিশোরগঞ্জে এসে শহরের নীলগঞ্জ রোড এলাকার ভাড়া বাসা ‘পরশমনি’ তে অবস্থান নেয়।

এর আগে পহেলা জুলাই ছাত্র পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়ে পরদিন ২রা জুলাই সেখানে অবস্থান নেয় নব্য জেএমবি’র ঢাকা বিভাগের অপারেশন কমান্ডার আকাশ। হামলার আগেরদিন ৬ই জুলাই বিকালে তামিম চৌধুরী, মেজর জাহিদ, আকাশ, আবির ও ডন প্রত্যেকে আলাদা আলাদা রেকি করে ৭ই জুলাই ঈদের দিন শোলাকিয়ার ইমামকে ঈদগাহের ভিআইপি গেটে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ঈদের দিন সকালে পাঁচ জনের দলটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে বেরিয়ে পড়ে অপারেশনে। হামলা পরিচালনার দায়িত্বে দেয়া হয় জঙ্গি আবির রহমান ও শরীফুল ইসলাম ওরফে শফিউল ইসলাম ওরফে ডনকে। কিন্তু তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের তৎপরতা নস্যাৎ করে দেয় তাদের সব পরিকল্পনা। তল্লাশির মুখে পড়ে চাপাতি ও বোমা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে জঙ্গি আবির ও শরীফুল। আলোচিত এই হামলার নেপথ্যে থাকা নব্য জেএমবি’র উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাস ওরফে জাহিদ (৩২) আদালতে ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পাওয়া গেছে অস্ত্রদাতা ও অর্থদাতাদের নাম। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা রাজীব গান্ধীর দেয়া এসব তথ্য যাচাই-বাচাই করছেন। এছাড়া তার জবানবন্দিতে আসা অস্ত্রদাতা ও অর্থদাতাদের খোঁজ করছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১লা জুন শোলাকিয়া হামলা মামলায় জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাস ওরফে জাহিদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রাজীব গান্ধী জানায়, সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা থেকে দু’টি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নেয় নব্য জেএমবি। এর বাইরে আরো দু’টি কারণ ছিল। প্রথমত নব্য জেএমবি’র মধ্যে দু’টি গ্রুফ ছিল। দু’টি বড় ধরনের হামলা হলে নিজেদের সেই কোন্দল মিটে যাবে ও নিজেদের মধ্যে আস্থা বাড়বে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়া সহজ হবে।

হামলার অস্ত্র ও অর্থদাতাদের সম্পর্কে জবানবন্দিতে রাজীব গান্ধী জানায়, পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে বড় মিজানের মাধ্যমে হামলার অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়। ছোট মিজান, খালিদ ও রিপন সেই অস্ত্র পৌঁছে দিতো। এছাড়া শোলাকিয়া হামলার সরাসরি অংশ নেয়া দুই জঙ্গি আবির রহমান ও শফিউলের মধ্যে শফিউল জঙ্গি রাজীব গান্ধীর মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে আসে বলেও রাজীব গান্ধী তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান জানান, জঙ্গি রাজীব গান্ধী ও অন্যদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে শোলাকিয়া চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনার নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী, অর্থ ও অস্ত্রদাতা ও সহযোগীদের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাচাই ছাড়াও যাদের নাম এসেছে তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। তারা সহসাই ধরা পড়বেন বলে তিনি আশা করছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত