বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ, সংস্কারের ব্যাপারে উদাসীন সওজ



মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের অন্তত ১০টি স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত ৩০ জুন থেকে এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রেেয়ছে। ফলে ৩ উপজেলার জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হু হু করে বাড়তে থাকে জিনিসপত্রের দাম। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২০-৫০ টাকা ভাড়ার দূরত্বে ১০০-২০০ টাকায় ট্রাক্টর, পিকআপ-ভ্যান ও পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে রাস্তা পার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে জানসাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হলেও সংস্কারে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ চরম উদাসীন রয়েছে।
ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে গত ২১ জুন থেকে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের জুড়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মুখ, নাইট চৌমুহনী, উত্তর জাঙ্গীরাই, নবনির্মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখ, বাছিরপুর, কুইয়াছড়া, পশ্চিম হাতলিয়াসহ অন্তত ১০টি স্থানে রাস্তার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হতে থাকে। পানির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় পিচ ভেঙ্গে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। অব্যাহত বর্ষণে সড়কের কোনো কোনো স্থান ৩-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গত ৩০ জুন থেকে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার জনসাধারণ মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন। তারা ২০-৫০ টাকা ভাড়ার দূরত্বে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব সড়কের ওপর থেকে ১ ইঞ্চি পানি কমেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের শ্রমিকরা পানির নিচে তলিয়ে থাকা রাস্তায় সৃষ্ট গর্তে খোয়া ফেলার কাজ করলেও সরাসরি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে পারেনি। ভুক্তভোগী বশির উদ্দিন, আজিম উদ্দিন, লাল মিয়া, জয়নাল আবেদীনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের চরম উদাসীনতায় শত শত মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হলেও দেখা গেছে অতিবৃষ্টি হলেই এ স্থানগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। সব স্থান মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১ কিলোমিটারেরও কম রাস্তা মাত্র দুই ফুট উঁচু করলে পানিতে এ রাস্তা তলিয়ে যেতো না। যানবাহন মালিক, চালক, যাত্রীসহ এলাকাবাসী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের নিচু স্থানগুলো অবিলম্বে উঁচু করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিএ-বি’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, কয়েকদিন পূর্ব থেকেই গর্ত ভরাটের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা শুরু করা যায়নি। কিছু পানি কমায় খোয়া ও ইট ফেলে গর্ত ভরাটের চেষ্টা চলছে। এ সড়কের নিচু স্থানগুলো উঁচুু করার ব্যাপারে সওজ চিন্তা-ভাবনা করছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত