বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

তারিক সালমনের ব্যবহারে মুগ্ধ বরগুনার মানুষ



নিউজ ডেস্ক:: মনের কষ্ট আড়াল করে পুরোদমে অফিস শুরু করেছেন বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমন।
গণমাধ্যমেও বক্তব্য দিতে নারাজ তিনি। বিনয়ের সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দেশবাসীর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহানুভূতির কথা উল্লেখ করে তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অগাধ ভালবাসা ছিল তার। স্কুল জীবনে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর উপর প্রবন্ধ লিখে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।
ইউএনও তারিক সালমনের ব্যক্তিত্ব, সদাচারণ ও সরকারি নির্দেশ পালনে পূর্ণ আনুগত্য সম্পর্কে প্রশংসা করেছেন বরগুনা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিকবৃন্দও।
বরগুনায় যোগদানের পর থেকেই একজন ন্যায়-নিষ্ঠাবান ও বিনয়ী কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।
বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যোগদানের পর থেকেই ইউএনও তারিক সালমন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ ও বিনয় দেখিয়েছেন তা অনন্য। উপজেলা পরিষদের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী তার সদাচারণের ভক্ত। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি বিনয়ের সঙ্গেই শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে থাকেন। এবং সে অবস্থানে তিনি থাকেন অটল ও অবিচল।
বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ আবদুর রশীদ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে জেনেছি ইউএনও তারিক সালমনের বাবা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যে ক’দিনই ইউএনও তারিক সালমনের সঙ্গে দেখা হয়েছে কিংবা কথা হয়েছে তাতেই বুঝেছি তিনি সত্যিকারেই একজন বিনয়ী মানুষ। তার কথায় নির্বাহী অফিসার সুলভ কোনো দাম্ভিকতা তার নেই। সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাশীল তিনি।
বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস হোসেন মন্টু বলেন, একজন তরুণ ও উদ্যমী কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও তারিক সালমন অল্প সময়ের মধ্যেই সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। এমন একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বরগুনায় যোগদানের পর থেকে ইউএনও গাজী তারিক সালমনের সঙ্গে সব থেকে বেশি আমার যোগাযোগ হয়েছে। খুব কাছ থেকে তাকে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। তার আচার-আচরণে উপজেলা পরিষদের সবাই মুগ্ধ। অফিসের কর্মকর্তা তো বটেই, সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তিনি খুব বিনয়ী ব্যবহার করেন।
বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও আইসিটি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ইউএনও গাজী তারিক সালমনের আচার-আচরণ সততা দেশপ্রেম দৃঢ়তা আসলেই সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন ভদ্র, সৎ এবং মেধাবী কর্মকর্তা। একই সঙ্গে তার সাহিত্য এবং কাব্য প্রতিভাও অসামান্য।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচনা লিখে স্কুল জীবনেই জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তারিক সালমন। একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তার পক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি করা কখনই সম্ভব নয়।
বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, বরগুনায় যোগদানের পরপরই তিনি তার অফিসে চায়ের দাওয়াত দিয়ে স্থানীয় সকল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হন। সে সময় তিনি বিনয়ের সঙ্গে বরগুনা সদর উপজেলার উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের সকল ইতিবাচক প্রচেষ্টায় সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ চান।
প্রসঙ্গত, একজন ন্যায়-নিষ্ঠাবান ও কর্তব্য পরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানামুখী সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রশংসিত হন ইউএনও গাজী তারিক সালমন। এসময় দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবিচল থেকে বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে একটি কুচক্রীমহল অসৎ উদ্দেশ্যে বিদ্বেষমূলকভাবে তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
চলতি বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কান প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলা পরিষদ। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা ছবি দু’টো দিয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস আমন্ত্রণ পত্র ছাপান তৎকালীন আগৈলঝড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমন।
দাওয়াত কার্ডের একটি ছবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হওয়ায়, ওই ছবি বিকৃতির অভিযোগে চলিত বছরের ৭ জুন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচ কোটি টাকার একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
এ মামলায় গত ১৭ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে ইউএনও গাজী তারিক সালমন জামিন আবদন করলে আদালতের বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ নিয়ে সর্বপ্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় জাগো নিউজে। এর পরপর সংবাদ প্রকাশিত হয় অন্যান্য গণমাধ্যমেও। এরপরই সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে জামিন নামঞ্জুরের দু’ঘণ্টা পরে একই আদালত তাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, জাগাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইরেজিতে স্নাতন ও স্নাতোকোত্তর সম্পন্ন করে ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একজন সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন গাজী তারিক সালমন। পরে বদলি ও পদোন্নতি পেয়ে গত ৪ জুন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এর আগে বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলার ইউএনও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ইউএনও গাজী তারিক সালমন।
গাজী তারিক সালমনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায়। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার বাবা একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত